ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা প্রকল্পে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিল কেন্দ্র। প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, ভুয়ো নথি জমা এবং নিয়মবহির্ভূত কাজের অভিযোগে ১৭৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ট্রেনিং পার্টনারকে ব্লক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোগ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২২টি আলাদা নামে নিবন্ধিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পার্টনার, আর ৫৬টি একই নামে করা। তদন্তে দেখা গেছে, বহু কেন্দ্রেই প্রশিক্ষণের নথিপত্রে অসঙ্গতি রয়েছে। কোথাও প্রশিক্ষণের উপস্থিতির তালিকা জালিয়াতি করে জমা দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার বাস্তবে অস্তিত্ব না থাকা কেন্দ্র থেকে বিলের দাবি করা হয়েছে। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। একাধিক কেন্দ্র আসল প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি অংশগ্রহণকারীর নাম দেখিয়ে ভুয়ো বিল জমা দিয়েছে এবং সরকার প্রদত্ত টাকার ছয়নয় করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ট্রেনিং সেন্টার কেলেঙ্কারিতে উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে, সেখানে মোট ৫৯টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দিল্লিতে ২৫টি, মধ্যপ্রদেশে ২৪টি এবং রাজস্থানে ২০টি কেন্দ্রের নামও এই তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগঢ়, তেলঙ্গানা, মিজোরাম, জম্মু ও কাশ্মীরসহ আরও কয়েকটি রাজ্যের কেন্দ্রগুলিও নজরদারিতে এসেছে।
কেন্দ্রের তরফে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ও প্রকল্প পরিচালনাকারী আধিকারিকদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির থেকে ইতিমধ্যেই বরাদ্দ অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র, এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনসঙ্গত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের মতে, সরকারি তহবিল অপব্যবহার ও ভুয়ো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্তদের কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। সরকারি সূত্রে খবর, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলির কার্যক্রমে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি ও তৃতীয় পক্ষের অডিট ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের ভাবমূর্তি ও উদ্দেশ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীন সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা চালু হয়েছিল দেশের যুব প্রজন্মকে দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক অনিয়মের ঘটনাগুলি প্রকল্পটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার ফলে ভবিষ্যতে এমন প্রকল্পগুলিতে নজরদারি ও নিরীক্ষা প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হবে।
