ওঙ্কার ডেস্ক : শনিবারের মধ্যে বিমানের সময়সূচী স্থিতিশীল হবে এবং তিন দিনের মধ্যে ইন্ডিগো সমস্যা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে বলে আশা করছে কেন্দ্র। শুক্রবার এক বিবৃতিতে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডুও বলেছেন, বিমান চলালচল ভেঙে পড়ার ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং এর কারণ জানতে চাইবে কেন্দ্র। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ) বিবৃতি দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘোষণা করেছে যে বিলম্ব এবং বাতিলকরণের কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাইলট এবং ক্রুদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনের কিছু বিধানের রদবদল করা হবে। তাঁর সাফ কথা, যাত্রীদের স্বার্থে এবং নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেছেন, বিমান পরিষেবা যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক করা যায় এবং যাত্রীদের অসুবিধা যতটা সম্ভব দূর করা যায় তা নিশ্চিত করার জন্য বেশ কয়েকটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশাবলীর তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নের ভিত্তিতে, আমরা আশা করি যে আগামীকাল নাগাদ বিমানের সময়সূচী স্থিতিশীল হতে শুরু করবে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আমরা আশা করি যে আগামী তিন দিনের মধ্যে এই পরিষেবা পুরোপুরি ফেরানো যাবে।
যাত্রীদের কীভাবে সাহায্য করা হবে তা উল্লেখ করে নাইডু বলেন, বিমান সংস্থাগুলিকে নিয়মিত এবং সঠিক আপডেট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীরা তাদের বাড়ি ছাড়ার আগে রিয়েল-টাইম ফ্লাইটের অবস্থা জানতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাতিল ফ্লাইটের জন্য যাত্রীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাবে। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য হোটেল থাকার ব্যবস্থা করবে বিমান সংস্থাগুলি। তিনি আরও বলেন, “বয়স্ক নাগরিক এবং প্রতিবন্ধীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা যাতে আরামদায়ক থাকে তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের লাউঞ্জ অ্যাক্সেস এবং সম্ভাব্য সকল সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়াও, বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সকল যাত্রীদের জন্য জলখাবার এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া হবে।”
বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দেরী এবং বাতিলের বিষয়ে কেন্দ্র একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিস্থিতি যাতে পুনরায় না হয় তার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তদন্তটি ইন্ডিগোতে কী ভুল হয়েছে তা পরীক্ষা করবে, যথাযথ পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনে তাদের জবাদিহি করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরণের যাতে সমস্যা না দেখা দেয় তার জন্য কিছু ব্যবস্থা সুপারিশ করবে এই তদন্ত কমিটি।”
ইতিমধ্যে ডিজিসিএ এফডিটিএল-এ তিনটি পরিবর্তন করেছে, যার মধ্যে একজন পাইলট টানা কত ঘন্টা উড়তে পারবেন তার সীমা ১২ থেকে ১৪ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলের সদস্যরা এবং কিছু বিশেষজ্ঞ ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর কেন্দ্রকে নতি স্বীকার করতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। ইন্ডিগো ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভ্যন্তরীণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে নাইডু বলেছেন যে যাত্রীদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য এই ব্যবস্থাগুলি প্রয়োজনীয় ছিল। ডিজিসিএ-র ফ্লাইট ডিউটি সময়সীমার আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিমান নিরাপত্তার সঙ্গে আপস না করে, এই সিদ্ধান্তটি কেবল যাত্রীদের, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিক্ষার্থী, রোগী এবং প্রয়োজনীয় প্রয়োজনে সময়োপযোগী বিমান ভ্রমণের উপর নির্ভরশীল অন্যান্যদের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমান পরিবহন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের যত্ন, নিরাপত্তা এবং সুবিধা ভারত সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে রয়েছে।
