বিশেষ সংবাদদাতা : গত এক সপ্তাহ ধরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ফলে ইন্ডিগোকে বিমান চলাচল “স্থিতিশীল” করার নির্দেশ দিল কেন্দ্র। একই সঙ্গে কেন্দ্র ইন্ডিগোর ফ্লাইট কমানোর পরিমান ৫ % থেকে ১০% করলো।
এদিকে, দেশজুড়ে টানা কয়েক দিন ভয়াবহ সংকটের পর অবশেষে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে বলে ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংস্থার সিইও পিটার আলবার্স জানিয়েছেন, অপারেশন এখন স্থিতিশীল এবং সংস্থার পরিষেবা ধীরে ধীরে আগের গতিতে ফিরে এসছে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য পুনরায় ক্ষমাও চেয়েছেন আলবার্স।
ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২,২০০টি ফ্লাইট চালায়। ফলে কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ শতাংশ কমানোর ফলে ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ২০০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করায় আকাশ পরিবহনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিল। ইন্ডিগো X-এর একটি পোস্টে বলেছে, “মন্ত্রণালয় মনে করে সামগ্রিক ইন্ডিগো রুটগুলি হ্রাস করা প্রয়োজন, যা বিমান সংস্থার কাজ স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে এবং বাতিলকরণ হ্রাস করবে।” তারা আরও জানিয়েছে, “১০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি মেনে চলার সময়, ইন্ডিগো আগের মতোই তার সমস্ত গন্তব্যস্থলে পরিষেবা অব্যাহত রাখবে।”
পোস্টটিতে আরও বলা হয়েছে, “ইন্ডিগোকে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মন্ত্রকের সমস্ত নির্দেশ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ভাড়া ক্যাপিং এবং যাত্রীদের সুবিধার্থে ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”
বর্তমান পরিস্থিতি জানতে মঙ্গলবার ইন্ডিগোর প্রধান পিটার এলবার্সকে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল। এরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই পোস্টে, ইন্ডিগো আরও নিশ্চিত করেছে যে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটগুলির জন্য ১০০ শতাংশ ফেরত মিটেছে। বাকি ফেরত এবং লাগেজ হস্তান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে আসার আগে, এলবার্স তাঁর X-এর একটি পোস্টে একই দাবি করেছিলেন। কেন্দ্র এর আগে ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইংগিত দিয়েছিল।
বিমান পরিবহন মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু মঙ্গলবার সংসদে বলেছেন, বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ডিজিসিএ ইন্ডিগোর কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেছিলেন, “ফলাফলের উপর নির্ভর করে, বিমানের নিয়ম ও আইন অনুসারে কঠোর এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
