ওঙ্কার ডেস্ক: ছত্তীসগড়ে এক বিস্ময়কর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। যাঁকে পুলিশি নথিতে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই ব্যক্তিই নিজে থানায় হাজির হয়ে প্রশ্ন তুললেন কীভাবে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হলো। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তদন্ত প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক গাফিলতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ছত্তীসগড়ের সিমিত খাখা নামের এক যুবক। কিছুদিন আগে তাঁর গ্রামের কাছাকাছি এলাকা থেকে একটি অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর সেই দেহটিকেই নিখোঁজ যুবকের দেহ বলে শনাক্ত করা হয়। পরিবারের সদস্যরাও পরিস্থিতির চাপে সেই শনাক্তকরণ মেনে নেন। এরপর খুনের মামলা রুজু হয় এবং তদন্তে নেমে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে। প্রশাসনিক নথিতে যুবককে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়াও সেই অনুযায়ী এগোতে থাকে। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায়, যখন ওই মৃত সীমিত নিজেই জীবিত অবস্থায় থানায় এসে হাজির হন। তিনি পুলিশের কাছে জানান, কাজের সন্ধানে তিনি রাজ্যের বাইরে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবার ভেবেছিল তিনি মারা গিয়েছেন। এই সুযোগেই উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দেহটিকে তাঁর দেহ বলে ধরে নেওয়া হয়।
যুবকের অভিযোগ, কোনও ডিএনএ পরীক্ষা বা চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়াই পুলিশ তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেয়। এর জেরে শুধুমাত্র তাঁর পরিবারই নয়, বরং যাঁদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাঁরাও মারাত্মক আইনি জটিলতায় পড়েছেন। যুবকের দাবি, গ্রেফতার হওয়া প্রত্যকেই নির্দোষ এবং তাঁর পরিচিত। ভুল শনাক্তকরণের কারণেই তাঁদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতেই একটি মৃতদেহের পরিচয় নির্ধারণ করা হলো এবং কেন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। পাশাপাশি সীমিতের পরিচিত ব্যাক্তিদেরও কোনো পক্ত প্রমাণ ছাড়ায় কীভাবে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। ভুল সংশোধন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা এবং দায়ী আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, তদন্তে সামান্য গাফিলতিও কত বড় মানবিক ও আইনি বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
