মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর অ্যাকশন মোডে পুলিশ। ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকার সন্তান প্রসবের ঘটনায় গ্রেফতার ২১ বছর বয়সী স্বামী। ঘটনাস্থল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা থানা সংলগ্ন এলাকা। সূত্রের খবর, ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। চলছে তদন্ত।
সম্প্রতি বাল্যবিবাহ রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, নাবালিকা বিয়ে বা তাঁর সন্তান প্রসবের ঘটনা সামনে এলে স্বামীকে গ্রেফতার করা হবে। এমনকি বিয়ে যারা দেবে, সেই পরিবারের লোকজনও শাস্তির আওতায় পড়বে। এই আবহেই বুধবার রাতে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে গড়বেতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয় ওই নাবালিকা। সেখানেই সন্তানের জন্ম দেয় সে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেই খবর দেওয়া হয় থানায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকার সন্তান প্রসবের বিষয়টি চিকিৎসক পুলিশকে জানান। চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে গড়বেতা থানার পুলিশ। এরপর সন্ধিপুর এলাকা থেকে নাবালিকার স্বামী ২১ বছর বয়সী রাহুল মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে রাহুল মণ্ডলের সঙ্গে ওই নাবালিকার বিয়ে হয়। এরপরই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়। ঘটনার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে গড়বেতা থানার পুলিশ। পাশাপাশি এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুক্রবার আবারও অন্য এক নাবালিকার সন্তান জন্মের ঘটনায় এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই জেলা জুড়ে অভিযান চলছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘নাবালিকা সন্তান প্রসবের ঘটনা আমাদের যেকোনও ভাবে বন্ধ করতে হবে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জুড়ে আমাদের এই অভিযান চলবে।’