ওঙ্কার ডেস্ক: অক্সফোর্ড ইউনিয়নের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বিচারবিভাগের ক্ষমতা কোনোভাবেই মানুষের মনে ভয়ের জন্ম দেওয়ার অস্ত্র হতে পারে না। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে গণতন্ত্র, সংবিধান এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি জানান, বিচারিক ক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য মানুষের অধিকার রক্ষা করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সম্ভাব্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
বক্তৃতায় গাভাই বলেন, বিচারবিভাগীয় সক্রিয়তা অবশ্যই প্রয়োজনীয়, কারণ বহু সময় আইনসভা বা কার্যনির্বাহী শাখার সীমাবদ্ধতা বা ভুল সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের অধিকার হুমকির মুখে পড়ে। সেই জায়গায় আদালতকে এগিয়ে এসে ন্যায় এবং সংবিধান রক্ষার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয় এবং সেখানে মানুষের সাধারণ জনজিবন যেন কোনো ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিচার বিভাগের এই সক্রিয়তা যেন কখনোই চরমে গিয়ে বিচারবিভাগীয় সন্ত্রাসে পরিণত না হয় এ বিষয়ে তিনি কড়া সতর্কবার্তা দেন। তাঁর মতে, বিচারবিভাগ অন্য দুই শাখার ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না, কারণ তিনটি শাখাই একই সংবিধানের অধীন এবং সংবিধানই সর্বোচ্চ। তিনি আরও বলেন, আদালতের ক্ষমতা তার বলপ্রয়োগ বা শাস্তিমূলক ক্ষমতা থেকে আসে না বরং আসে তার নৈতিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও অখণ্ডতা থেকে। বিচারব্যবস্থার বৈধতা টিকে থাকে কেবল তখনই, যখন তা মানুষের দুর্বলতার ওপর নয়, তাদের অধিকারের ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করে। মানুষের আশঙ্কা দূর করা, ন্যায়বিচারের ওপর আস্থা তৈরি করা এবং সংবিধানের ভাবধারাকে জীবন্ত রাখা এসবই বিচারবিভাগের প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করেন জাস্টিস গাভাই।
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি আদালতকে ‘সংবিধানের নৈতিক বিবেক’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর কথায়, আদালতই সেই জায়গা যেখানে দুর্বল মানুষও শক্তি পায়, যেখানে ক্ষমতার বিরুদ্ধে সত্য উচ্চারণ করা যায় ভয় ছাড়া। বিচারব্যবস্থা গণতন্ত্র রক্ষার মূল স্তম্ভ এ কথাও আবার মনে করিয়ে দেন তিনি।
বর্তমান সময়কালে দেশে বিচারবিভাগের সীমা, ক্ষমতা ও হস্তক্ষেপ সব পরিস্থিতির জেরেই গাভাই এই মন্তব্য করেছেন বলে মনে করেছেন অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্য বিচারব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে। তাঁর মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয় এবং বিচারবিভাগও নয়। কিন্তু সংবিধানের রক্ষাকবচ হিসেবে আদালতের ভূমিকা কখনোই কম নয়। তাই বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংযম, দায়বোধ এবং মানুষের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতিই হওয়া উচিত বিচারপতির মূল দিশা।
