ওঙ্কার ডেস্ক: দীপাবলির পর থেকেই রাজধানীতে বাতাসের গুনমান বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। খালি বাতাসে শ্বাস নেওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে উঠেছিল। বাতাসের একিউআই পৌঁছেছিল ৪০০ এর কাছকাছি, যা অত্যন্ত বিপদজনক। সেই দূষণের মাত্রা কমাতে মঙ্গলবার রাজধানী জুড়ে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দিল্লী সরকার এবং আইআইটি কানপুরের যৌথ উদ্যোগে ‘ক্লাউড সিডিং’ শুরু করা হয়। কিন্তু উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে সরকারের। এই পদ্ধতি ব্যর্থ হলেও ধীরে ধীরে দিল্লীর বাতাস স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
দিল্লির দূষণ রোধে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল কৃত্রিম মেঘসঞ্চারণ বা ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রযুক্তি। মঙ্গলবার আইআইটি কানপুরের বিজ্ঞানীদের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পের প্রথম ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল আকাশে সঞ্চিত মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টি নামিয়ে আনা, যাতে বাতাসে জমে থাকা ক্ষতিকর ধূলিকণা ও দূষক পদার্থ ধুয়ে যায়। তবে এই পরীক্ষায় অল্প পরিমাণ বৃষ্টি হলেও দূষণের মাত্রায় বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্পে ব্যবহৃত হয় দুটি বিশেষ বিমান, যা দিল্লির উপরে নির্দিষ্ট উচ্চতায় উড়ে বাতাসে সিলভার আয়োডাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড ও ড্রাই-আইস জাতীয় রাসায়নিক মিশ্রণ মেঘে ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে মেঘের ঘনত্ব বাড়ে ও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিজ্ঞানীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই আর্দ্রতার মাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে কম প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। এই কারণে পর্যাপ্ত ঘনীভবন না হওয়ায় বৃষ্টি সীমিত পর্যায়ে হয়। রাজধানীর ময়ূরবিহার, করোলবাগ ও বুরারী অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টি হলেও তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই থেমে যায়। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা কম থাকায় এই প্রযুক্তি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর মনীন্দ্র আগরওয়াল।
আইআইটি কানপুরের পরিমাপ অনুযায়ী, বৃষ্টির পরে দূষণের সূচকে সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। পরীক্ষার আগে ময়ূরবিহার এলাকায় পিএম সূচক ছিল ২২১, করোলবাগে ২৩০ এবং বুরারীতে ২২৯। পরীক্ষার পর তা যথাক্রমে ২০৭, ২০৬ ও ২০৩-এ নেমে আসে। যদিও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই প্রভাব অস্থায়ী এবং বৃষ্টি বন্ধ হতেই দূষণ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রযুক্তি জরুরি পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। রাজধানীর বায়ুদূষণের মূল কারণ, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণস্থলের ধূলিকণা, শিল্পাঞ্চলের ধোঁয়া এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যে ফসল পোড়ানো। তার উপর দীপাবলির সময় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও মাত্রাতিরিক্ত বাজি ফাটানোর কারণে বাতাসে ব্যপকভাবে বিষাক্ত ধুলিকণা মিশে যাওয়ায় একিউআই ৪০০ কাছাকছি চলে যায়। আইআইটি কানপুরের ডিরেক্টর জানান, রাজধানীতে যদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে কৃত্রিম বৃষ্টিতে বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরিবেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রকল্পটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনা যাচাই করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। আগামী দিনে সমস্ত দিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করে আরও কিছু ট্রায়াল চালানো হবে। বিশেষজ্ঞদের আশা, প্রযুক্তিগত উন্নতি ও সঠিক আবহাওয়া পরিস্থিতি থাকলে এই পদ্ধতি সাময়িকভাবে দূষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন কঠোর নীতি, পরিকল্পনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী ব্যবস্থা।
