ওঙ্কার ডেস্কঃ রথ যাত্রায় নতুন সরকারের নয়া উদ্যোগ। কয়েক দশক ধরে চলে আসা রথযাত্রার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অনুদানের অর্থ মূলত পুরনো ও কাঠের নির্মিত রথগুলির সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় করার জন্য কমিটিগুলিকে অনুরোধ জানান তিনি। আগামী দিনে এই তালিকা আরও ত্রুটিমুক্ত ও সম্প্রসারিত করার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে যে বৃক্ষটি রোপণ করা হল, ভবিষ্যতে তা মহীরুহে পরিণত হবে।”
সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসন এবং ঐতিহ্যবাহী কমিটিগুলির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক সারেন তিনি। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ইসকন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো শীর্ষস্থানীয় আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সন্ত সমাজের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে সযত্নে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। সেকারণেই এই উদ্যোগ।
ঐতিহ্যের এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে এবারই প্রথম রাজ্য সরকার রথযাত্রায় সরাসরি ও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে দু’টি বড় ঘোষণা করেন। একটি এই অনুদান। অন্যদিকে, মাহেশ বা মহিষাদলের মতো রাজ্যের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলা প্রাঙ্গণে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পরিচালনায় বিশেষ সরকারি ‘সেবাকেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। যেখানে পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পুণ্যার্থীদের ন্যূনতম পরিষেবা সুনিশ্চিত করা হবে।
এবারের রাজ্য বাজেটে ধর্মীয় পর্যটন ও প্রাচীন মন্দিরগুলির সংস্কারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক কিরীটেশ্বরী মন্দির-সহ রাজ্যের প্রাচীন ও হেরিটেজ মন্দিরগুলির পুনর্সংস্কারের জন্য ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ নামে একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। আগামী দুই বছর ধরে এই সার্কিটের অধীনে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হবে এবং এই উদ্দেশ্যে বর্তমান অর্থবর্ষে প্রাথমিকভাবে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।