ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন রাজ্যে যে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তা অত্যন্ত তড়িঘড়ি, অগোছালো এবং মানবিক দিক বিবেচনা না করেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার কাজ যে স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক হবে, তা তো নয়ই, বরং সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মীরা অকথ্য চাপের মুখে পড়ছেন।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, এসআইআর কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই রাজ্যে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, বুথ-স্তরের কর্মীদের উপর অসম্ভব চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যা তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে এমনভাবে চাপ তৈরি করা নজিরবিহীন এবং এতে প্রশাসনিক স্থিতি নষ্ট হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোট তফসিল ঘোষণার আগেই রাজ্যে এক ধরনের ‘সুপার এমার্জেন্সি’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তাঁর কথায়, কমিশনের কাজ হওয়া উচিত ছিল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভোটের প্রক্রিয়া সুচারুভাবে প্রস্তুত করা, কিন্তু তার বদলে তারা রাজ্য প্রশাসনের উপর কর্তৃত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে এবং তিন মাস ধরে শাসনযন্ত্রকে ব্যাহত করছে। এ ধরনের পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
চিঠিতে তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ভোটার তালিকার নামে কিছু জায়গায় সংখ্যায় কাটছাঁট বা নতুন তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাঁর দাবি, হঠাৎ করে বড় আকারে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন তালিকা তৈরি করার মতো কাজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে, আর সেই কারণেই রাজ্য সরকার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহল আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। এসআইআর নিয়ে তৃণমূল আগে থেকেই অভিযোগ তুলে আসছিল, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং চিঠি পাঠানোতে ইঙ্গিত মিলছে যে বিষয়টি এখন শুধুই প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক সংঘাতের বড় অধ্যায় হয়ে উঠছে। কমিশনের উপর পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ও প্রশাসনের সঙ্গে খেলা করা সহজ নয় রাজ্য কোনওভাবেই তাদের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না।
বর্তমানে কমিশনের তরফে এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে তা নিয়েই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। তবে চিঠির ভাষা ও অভিযোগের তীব্রতা স্পষ্ট করে দেয়, রাজ্য ও কমিশনের সম্পর্ক আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে আগামী ভোটের সামগ্রিক পরিবেশে।
