ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম করে তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বৈঠকে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বহু মানুষ এমন এক সময়ে জন্মেছেন, যখন হাসপাতাল বা নথিভুক্ত জন্মের চল তেমন ছিল না। সেই সব মানুষের কাছে জন্ম শংসাপত্র দাবি করা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং অবাস্তব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর নিজের বাবা-মায়েরও জন্ম শংসাপত্র ছিল না। সেই উদাহরণ টেনে এনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কীভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এত কঠোরভাবে সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের নথি চাইতে পারে। একই সঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবারেও তো এমন পরিস্থিতি ছিল, তাহলে আজ তাঁদের পক্ষ থেকেই কেন এই ধরনের নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, প্রয়োজন হলে নকল সার্টিফিকেট বানানো খুব সহজ, কিন্তু প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করতে কেন্দ্র আগ্রহী নয়।
এসআইআর প্রক্রিয়াকে তিনি ‘বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, নামের বানান, ঠিকানার সামান্য ভুল, বা পুরনো নথির অভাবে বহু মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। এর ফলে বিশেষ করে দরিদ্র, প্রান্তিক ও বয়স্ক মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। মমতার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বাংলার মানুষের উপর এই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে আগামী দিনে ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলা যায়।
বিএলএ বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন এবং বলেন, প্রতিটি বুথে নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কেন্দ্রের যে কোনও অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস রাস্তায় নেমে লড়াই করবে। মমতার বক্তব্যে রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি প্রশাসনিক সতর্কবার্তাও স্পষ্ট ছিল, যা থেকে বোঝা যায় এসআইআর ইস্যু ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়তে চলেছে।
