স্পোর্টস ডেস্ক : ওপেনার ইশান কিষাণের ৪০ বলে ৭৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস ভারতকে প্রথমেই এগিয়ে দিয়েছিল। বাকিটা করে দেখালো বোলাররা। রবিবার কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে T 20 বিশ্বকাপ ক্রিকেট ঘিরে প্রথম থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। একটাই কারণ, ক্রিকেট বিশ্বের যুযুধান দুই টিম ভারত ও পাকিস্তান নেমেছে ময়দানে। যা বরাবর কার্যত যুদ্ধের দামামা বাজায়। এদিন স্টেডিয়ামে হাজির ছিল ১৮ হাজার ভারতীয় দর্শক, পাকিস্তান থেকে এসেছিলেন ১২ হাজার। ফলে এই মহারণ সামাল দিতে স্টেডিমায়ে মোতায়েন করা হয়েছিল দু হাজার নিরাপত্তা রক্ষী। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কর্তাদের এই সাবধানতা মোটেই অমূলক নয়। দু দেশের ক্রিকেট জ্বর এবং সাম্প্রতিক সম্পর্ক, দুই মিলিয়ে কোনো ছাড় দিতে চায়নি এবার T 20 বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা।
তবে কথায় আছে যতটা গরজায় ততটা বর্ষায় না। পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই গরিমা এখন অতীত মাত্র। কারণ,T 20 বিশ্বকাপের রেকর্ড বলছে এখন মহারণ শুধু কথার কথা। এমনিতেই পাকিস্তানের খেলা নিয়ে নানান টালবাহনা গেছে। T 20 বিশ্বকাপে ভারত-ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। সেই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান অনড় থাকলে রবিবারের ম্যাচই হত না। এখন মনে হচ্ছে তাতে বোধ হয় এমন লজ্জার হাত থেকে বাঁচতো পাকিস্তান। আট দিন পর বয়কটের সিদ্ধান্ত বদলায় বটে, কিন্তু ততদিনে গোটা ঘটনার ছায়া নিশ্চয়ই গেঁথে গিয়েছিল পাক ক্রিকেটারদের মনস্তত্ত্বে। রবিবারের ম্যাচে সেটাই স্পষ্ট হয়ে গেল। T 20 বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তানের খেলার পরিসংখ্যান বলছে ফলাফল ৮-১।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৭ উইকেটে তুলেছিল ১৭৫ রান। জবাবে পাকিস্তান থেমে গেল ১১৪-য়। শেষের দিকে শাহিন আফ্রিদি যদি না কিছুটা হম্বিতম্বি দেখাতেন তাহলে হয়তো রান ১০০ পেরাতো কিনা বলা মুশকিল। গোটা ম্যাচের কক্ষনোই মনে হয়নি পাকিস্তান ম্যাচ জিততে পারে।
ইশান কিষাণ দাপটে ব্যাটিং-এর পর, জসপ্রীত বুমরাহর বোলিং স্পেল পাকিস্তানের টপ অর্ডারকে ধ্বংস করে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিয়ে যায়। রবিবার কলম্বোতে একতরফা ৬১ রানের জয় আসে ভারতের। প্রেমাদাসার এক কঠিন পিচে কিষাণের সুপারসনিক ৭৭ (৪০ বল) সোনার মতো মূল্যবান ছিল, যা প্রথমে ব্যাট করার পর ভারতকে সাত উইকেটে ১৭৫ রানের লড়াই যোগ্য রান এনে দেয়। প্রতিবন্ধকতার নিরিখে দেখতে গেলে এটি কিষাণের সবচেয়ে বিনোদনমূলক টি-টোয়েন্টি ইনিংসগুলির মধ্যে একটি।
এই মাঠে ১৭৬ রান তাড়া করার জন্য পাকিস্তানের একটি শক্তিশালী পাওয়ার প্লে সেগমেন্টের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বুমরাহ (২/১৭) এবং হার্দিক পান্ডিয়া (২/১৬) বিগ হিটার সাহেবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব এবং সালমান আলী আগাকে ১১৪ রানে আউট করে দেন, যার ফলে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি প্রতিযোগিতাহীন হয়ে পড়ে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচেই ভারত এখন ৮-১ ব্যবধানে এগিয়ে।

একসময় পাকিস্তানের রান ছিল ১৩ রানে তিন উইকেটে। যেখানে পাকিস্তানের রান ছিল ৩৮ রান। ম্যাচ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ব্যবধান আরও বাড়তে থাকে। অক্ষর প্যাটেল বাবর আজমকে সরিয়ে বড় ধাক্কা দেন। উসমান খান একা কিছুটা লড়াই চালান, যোগ করেন ৪৪ রান। কিন্তু তাঁকে আউট করতেই সব আশা শেষ। এরপর কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী ও তিলক বর্মা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলতে থাকেন। বরুণের জোড়া আঘাতে পাকিস্তান ৯৭/৯। শেষ পর্যন্ত ইনিংস থামে ১১৪ রানে। ভারতের হয়ে বুমরাহ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯, বরুণ ২/১৭, হার্দিক ২/১৬—দাপুটে বোলিং পারফরম্যান্স। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সাতজন বোলার ব্যবহার করে চাপটা আগাগোড়া ধরে রাখেন।
