নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: অন্ধকার থেকে আলোয় যাওয়ার উৎসবই তো দীপাবলি। আর সেই আলোর উৎসবের জন্য আলো তৈরি করছে এমন কিছু ছোট্ট ছেলে-মেয়ে, যাদের জীবনের অনেকটা অংশই গ্রাস করেছে অন্ধকার। কেউ চোখে একটু কম দেখে, কেউ একেবারেই দেখতে পায় না। কেউ কানে কম শোনে, কেউ আবার মনের দিক থেকে একটু আলাদা। কিন্তু এই আলাদা হওয়াটাই যে ওদের বড় হওয়ার পথে কোনও বাধা নয়, সেটা ওরা নিজেদের হাতের কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে প্রতিদিন।
এই গল্প কাঁথির ফরিদপুর বিবেকানন্দ লোকশিক্ষা নিকেতন পরিচালিত দৃষ্টিহীন ও মানসিক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়াদের। রাত পোহালেই দীপাবলি। আর দীপাবলি মানেই তো ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর পালা। সেই আলো জ্বালানোর জন্য ওরা নিজের হাতে তৈরি করছে হরেক রকমের মোমবাতি। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, নানান রঙের বাহারি মোমবাতি! কোনটা বড়, কোনটা ছোট, কোনটা আবার ফুলের মতো দেখতে। ছোট্ট ছোট্ট আঙুল দিয়ে অতি যত্নে, ভালোবাসা দিয়ে এক একটা মোমবাতি তৈরি করছে ওরা।
আসলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা খুব ভালো করে জানেন, এই বিশেষভাবে সক্ষম ছেলে-মেয়েগুলোর জন্য উচ্চশিক্ষার পথটা খুব সহজ নয়। কিন্তু তাই বলে তো জীবন থেমে থাকবে না। সেই ভাবনা থেকেই ওদের কারিগরি শিক্ষার দিকে বেশি করে মন দেওয়া হয়েছে। শুধু বইয়ের পড়া নয়, হাতের কাজ শিখলে তো ওরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে পারবে। মোমবাতি তৈরি সেই শেখারই একটা সুন্দর অংশ। প্রশিক্ষকরা পাশে থেকে হাতে ধরে ওদের শিখিয়ে দিচ্ছেন, আর ওরাও কী ভীষণ আগ্রহ নিয়ে শিখে নিচ্ছে সবটা।
এবার দীপাবলির জন্য প্রায় ১০ বস্তা মোমবাতি তৈরি করেছে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। এরই মধ্যে অনেক মোমবাতি পৌঁছে গিয়েছে স্থানীয় বাজারে, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে। স্থানীয় বাজারে এই মোমবাতির চাহিদাও খুব। কারণ মানুষ জানেন, এই মোমবাতি শুধু মোম দিয়ে তৈরি নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে অনেকটা ভালোবাসা, অনেকটা পরিশ্রম আর অনেকটা স্বপ্ন। স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানান হয়েছে, এই মোমবাতি বিক্রির অর্থ ওদের ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্টেই জমা করা হবে। ওদের ভবিষত্যের জন্যে। যা নিঃসন্দেহে বড় উদ্যোগ বলে মনে করছেন পড়ুয়াদের পরিবার।