অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: দীপাবলির আলোয় আলোকিত হল আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ওভাল অফিস। শুক্রবার সেখানে ঘরোয়া অনুষ্ঠানে দীপাবলি উদযাপন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয়-আমেরিকান সদস্যরা, শিল্পপতি এবং বড় বড় সংস্থার শীর্ষ কর্তারা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজে হাতে প্রদীপ জ্বালান ট্রাম্প। তাঁর পাশে ছিলেন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ডেপুটি কমিশনার অর্জুন মোদী-সহ আরও অনেকে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন ক্বাত্রা, বিখ্যাত শেফ বিকাশ খান্না, উদ্যোগপতি বিশাল গোন্ডাল, আইবিএমের সিইও অরবিন্দ কৃষ্ণা, মাইক্রন টেকনোলজির সিইও সঞ্জয় মেহরোত্রা, এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথের ডিরেক্টর জয় ভট্টাচার্য। এছাড়াও ছিলেন ধাল্লা গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও রুবি ধাল্লা, ন্যাক সিস্টেমসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রাজীব শর্মা, কেশবম ডিসির প্রেসিডেন্ট বিশ্বজিৎ মাল্লামপতি, প্রেসিডেন্টের অতিথি হেতলকুমার প্যাটেল এবং হোয়াইট হাউসের ইভেন্টস আশার অরবিন্দ চাড্ডা।
এদিন অনুষ্ঠানের ছবি এক্স-এ শেয়ার করে গোন্ডাল লিখেছেন, “ওভাল অফিসে একসঙ্গে আলো ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্ত।”
জিওকিউআই টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বিশাল গোন্ডাল ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন হনুমান চালিশার একটি কপি। তিনি লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দীপাবলি পালন করতে পেরে সম্মানিত। তাঁকে তুলসীদাসের লেখা হনুমান চালিশা উপহার দিতে পেরে গর্বিত, যা কোটি কোটি মানুষ সাহস, ভক্তি আর শক্তির জন্য পাঠ করেন।” তিনি আরও জানান, দিয়া জ্বালানোর সময় তিনি ভারত ও আমেরিকার বন্ধুত্বের জন্য এবং অন্ধকারের ওপর আলোর জয়ের জন্য প্রার্থনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, হোয়াইট হাউসে দীপাবলি পালনের ঐতিহ্য অবশ্য নতুন নয়। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রথম এই উদযাপন শুরু করেন। তখন মূলত আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির সদস্য এবং ভারতীয় কূটনীতিকদের নিয়ে অনুষ্ঠান হত। ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রদীপ জ্বালান। ইস্ট রুমে হয়েছিল সেই অনুষ্ঠান।
তারপর থেকে ওভাল অফিস, রুজভেল্ট রুম-সহ হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন জায়গায় দীপাবলির প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। ট্রাম্পের এবারের উদযাপন সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। উল্লেখ্য, আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশেরও কম ভারতীয়-আমেরিকান। কিন্তু টেক্সাসের মতো রাজ্যে তাঁদের ভোট বড় প্রভাব ফেলে বলে মনে করা হয়।