ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রীতির ভূমি বাংলা। যেখানে আজান ও গৌর কীর্তনের ঘন্টা মিশে যায়। দুই সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের এই দৃশ্য চিরায়ত। এ বার জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে দেখা গেল অনন্য দৃষ্টান্ত। যেখানে মসজিদ কমিটির সম্পাদক পুজোর জন্য টাকা জোগান। হুগলির চন্দননগরে এই পুজো আয়োজিত হয় মসজিদ কমিটির জায়গায়। শুধু তাই নয় এই পুজোকে ঘিরে দেখা যায় হিন্দু-মুসলিম-খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উন্মাদনা।
মহিলারা সারা বছর জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্যই অর্থ সঞ্চয় করেন। চন্দননগরের পাদ্রী পাড়ায় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সহ সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন। তিনি স্থানীয় মসজিদ কমিটির সম্পাদকও। এ বছরে প্রতিমা তৈরির খরচ যা হয়েছে তা নিজের পকেট থেকে দিয়েছেন ইমতিয়াজ। পাশাপাশি, চাঁদা তোলা থেকে ভোগের দায়িত্বে রয়েছেন স্বপন, গৌতম, জোসেফ।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরে প্রতিমা আর আলোকসজ্জা দেখতে প্রতি বছর বহু মানুষ আসেন। পাদ্রীপাড়ার এই জায়গায় যেমন পালিত হয় জগদ্ধাত্রী পুজো, তেমনই ঈদের অনুষ্ঠান থেকে বড়দিনের উৎসব, সেগুলিও পালিত হয়। সম্প্রীতির এই মিলন ক্ষেত্র বর্তমানে ধর্ম নিয়ে বিদ্বেষ ও বিভেদের মাঝে যেন এক টুকরো আশার আলো ছড়ায় বলে মত পর্যবেক্ষকদের। পুজো কমিটির এক সদস্য জানান, চন্দননগর পৌর নিগমের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার উপরেই সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ সামিল হন। পরবর্তীতে রাস্তায় পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফে। এর পর পুজো কমিটি ও মসজিদ কমিটি আলোচনা করে রাস্তার পাশে জায়গা কিনে পুজো শুরু করে। সেই ধারা আজও চলছে।
