ওঙ্কার ডেস্ক: শরীরে অস্ত্রোপচার হয়নি। অথচ নথিতে দেখানো হয়েছে অপারেশন হয়েছে। সেই অস্ত্রোপচারের নামে জমা পড়েছে মোটা অঙ্কের বিল। অভিযোগ, এভাবেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের বিপুল টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্পে অনিয়মের তদন্তে সামনে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, তদন্তের শুরুতেই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। এখনও তদন্তের অনেকটা পথ বাকি। এটি টি-২০ ম্যাচ নয় যে দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। সময়ের সঙ্গে আরও অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আসবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সাধারণত স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা এবং গ্রাহকের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে কাজ করে থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা টিপিএ। বিমা সংস্থার হয়ে ক্লেম সংক্রান্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করাই তাদের দায়িত্ব। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে এই টিপিএ-র একাংশের বিরুদ্ধেই দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নার্সিংহোমগুলির কাছ থেকে স্বাস্থ্যসাথীর বিলের ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত টাকা আদায় করা হত। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আটকে দেওয়া হত প্রকল্পের পাওনা। এভাবে বিভিন্ন নার্সিংহোমের উপর চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই অনিয়মের সঙ্গে স্বাস্থ্যদপ্তরের কয়েকজন আধিকারিকের যোগ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের একাংশ বেআইনিভাবে অতিরিক্ত বিল অনুমোদন করতেন বলে দাবি। অভিযোগ, নির্দিষ্ট অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে যে প্যাকেজের মূল্য ৪০ হাজার টাকা, সেটিই বাড়িয়ে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নার্সিংহোমের তরফে বেশি টাকার প্যাকেজ চেয়ে আবেদন করা হত। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক সেই আবেদন অনুমোদন করতেন বলে। বিনিময়ে তিনিও অতিরিক্ত টাকার একটি অংশ পেতেন বলে দাবি। পরে সেই টাকা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ হয়ে যেত।