ওঙ্কার ডেক্স: আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদী নেত্রী পথৌলা পদ্মাবতী ওরফে সুজাতা। বাংলায় নিহত মাওবাদী নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির স্ত্রী তিনি। তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন মাওবাদী নেত্রী সুজাতা।
প্রসঙ্গত, জঙ্গল, গুলি বারুদ, মাওবাদী আদর্শ ছেড়ে দলে দলে মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলায়। ভবানী ভবনে কার্যত দল বেঁধে মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ফিরতেন জীবনের মূল স্রোতে। এই আবহে বাংলায় নিহত হন মাওবাদী নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজি। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর ঝাড়গ্রামের জামবনি থানার বুড়িশোল জঙ্গলে যৌথবাহিনীর গুলিতে নিহত হন তিনি। এবার এই নিহত কিষেণজির স্ত্রী আত্মসমর্পণ করলেন তেলঙ্গানায়। ১৯৮২ সাল থেকে পুলিশ খুঁজছিল সুজাতাকে। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১ কোটি টাকা। নিষিদ্ধ সংগঠনের দক্ষিণাঞ্চলের সেক্রেটারি ছিলেন তিনি। তা ছাড়া সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও ছিলেন কিষেণজির স্ত্রী।
তেলঙ্গানা পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ডিজিপি-র উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করেছেন সুজাতা। কে এই সুজাতা? জানা যাচ্ছে, তেলঙ্গানার জোগুলাম্বা গাদওয়াল জেলায় দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম পদ্মাবতী ওরফে সুজাতার। মাও নেতা কিষেণজিকে বিয়ে করেন তিনি। স্বামী-স্ত্রী, দু’জনেই ছিলেন মাওবাদীর শীর্ষস্থানীয় নেতা। জানা যাচ্ছে, সুজাতা তার তুতো ভাইদের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে মাওবাদী সংগঠনে নাম লিখিয়েছিলেন। এরপর শুরু হয় বন্দুক হাতে জঙ্গলের অন্ধকারে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। নিষিদ্ধ সংগঠনের কাজের জন্য ছত্তীসগঢ়, তেলঙ্গানা এবং ওড়িশায় তিনি ছিলেন ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায়। তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সুজাতার এই আত্মসমর্পণকে ‘নৈতিক জয়’ হিসাবে দেখছে তেলঙ্গানা পুলিশ। তেলঙ্গানা পুলিশের দাবি, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪০৪ জন মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করেছেন। ‘ওয়ান্টেড’ সকল মাওবাদী নেতার উদ্দেশে তেলঙ্গানার ডিজিপি জিতেন্দ্রর বার্তা, ‘আপনারা অস্ত্র নামিয়ে নিন। আসুন, নিজেদের গ্রামে ফিরুন, রাজ্যের উন্নয়নে শামিল হোন।’ উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে কিষেণজির ভ্রাতৃবধূ আত্মসমর্পণ করেন মহারাষ্ট্রে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তিনি।
