নিজস্ব প্রতিনিধি, ওঙ্কার বাংলা: খারাপ হয়ে গিয়েছিল এসি। আর তা সারানোর জন্য টেকনিশিয়ানের হদিশ পেতে অনলাইনে সার্চ করেছিলেন কলকাতার ইঞ্জিনিয়ার। অনলাইনে টেকনিশিয়ানের ফোন নম্বর পেয়ে সেখানে যোগাযোগ করেন তিনি। এর পর লাইভ লোকেশন শেয়ার করার পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল বিপুল পরিমাণ টাকা। যিনি প্রতারিত হয়েছেন, তিনি কলকাতার বিরাটির বাসিন্দা। পেশায় এক জন ইঞ্জিনিয়ার। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ থেকে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ইঞ্জিনিয়ারের নাম অভিষেক দাস। ইন্টারনেটে খুঁজেছিলেন এসি সার্ভিসিং সংস্থার নম্বর। সেখান থেকেই নম্বর পেয়ে তিনি ডায়াল করেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, তারা এসি সার্ভিসিং করেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তারা একজন টেকনিশিয়ান পাঠাবেন। এর কিছু ক্ষণের মধ্যে অন্য আরেকটি নম্বর থেকে ফোন আসে। সেখানে বলা হয় লাইভ লোকেশন পাঠাতে। এরপর ওই ইঞ্জিনিয়ার কোনও সন্দেহ না করে সংশ্লিষ্ট সেই নম্বরে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে দেন। অভিযোগ, এর পরেই আধঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে যায় বিশাল অঙ্কের টাকা। নয়টি ট্রানজ্যাকশনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
গোটা বিষয়টি জানিয়ে এয়ারপোর্ট থানায় এবং বিধাননগর কমিশনারেট-এ অভিযোগ জানান অভিষেক। বিষয়টি জানার পর তদন্তে নেমে উত্তরপ্রদেশের ইটাওয়া অঞ্চল থেকে দীপাংশু শ্রীবাস্তব নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতকে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ, আরও কেউ এই চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সাইবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, লাইভ লোকেশন যেহেতু সাইবার প্রতারকদের কাছে নয়া ফাঁদ হয়ে উঠেছে, তাই লাইভ লোকেশন না পাঠানোই উত্তম।
