ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের দ্বারভাঙ্গায় এক ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে উত্তাল এলাকা। শনিবার রাত থেকে নিখোঁজ ঐ শিশুটির দেহ রবিবার সকালে এলাকারই এক পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। এরপর থেকেই এলাকার মানুষজন ক্ষীপ্ত হয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয়। এখনো পর্যন্ত একজন গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেহ ময়ানা তদন্তের জন্য পাঠনো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পুলিশের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর ফলে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে এবং কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দ্বারভাঙা এলাকা।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সন্ধ্যার সময় বাড়ির সামনে আরও দুই সঙ্গীর সঙ্গে খেলছিল শিশুটি। সেখান থেকেই আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। দীর্ঘ সময় তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাতভর তল্লাশি চালানো হলেও কোনও হদিশ মেলেনি। পরদিন রবিবার সকালে গ্রামের একটি পুকুরে শিশুটির দেহ ভাসতে দেখেন বাসিন্দারা।
পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার সঙ্গে থাকা আরও দুই শিশুকেও অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে তারা কোনওক্রমে পালিয়ে বাড়িতে ফিরে পুরো বিষয়টি জানায়। ওই দুই শিশুর বয়ান অনুযায়ী, অভিযুক্তকে তারা চিনত। এরপরই পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে এবং তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তের জামায় রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে। সেই রক্ত শিশুটির কি না, তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, তবে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বারবার সংঘর্ষ বাধে।
