ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লিতে ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপ। সোমবার বিকেলে আচমকাই প্রবল ধুলোঝড়ে ঢেকে যায় রাজধানীর আকাশ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিষ্কার আকাশ ধূসর ধুলোর চাদরে ঢেকে পড়ে, যার ফলে দৃশ্যমানতা ব্যাপকভাবে কমে যায়। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর পালম এলাকায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯২ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে দেখা যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী ধুলোঝড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিকেল গড়াতেই দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে কালো মেঘের সঙ্গে ধুলোর ঘন স্তর জমতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাস্তার গাড়িচালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হয়। বহু জায়গায় যানবাহনের গতি কমিয়ে দিতে বাধ্য হন চালকেরা। পথচলতি মানুষও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। ধুলোঝড়ের কারণে খোলা জায়গায় থাকা মানুষদের চোখ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রবল হাওয়ার দাপটে রাজধানীর একাধিক এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের তারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঝড়ের সময় গাছ, পুরনো বাড়ি কিংবা অস্থায়ী কাঠামোর কাছাকাছি না থাকার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর-পশ্চিম ভারতের উপর সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব এবং বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণেই এই ধুলোঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আবহাওয়া দপ্তর লাল সতর্কতা জারি করেছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে অস্বাভাবিক আবহাওয়ার দাপট দেখা যাচ্ছে। কখনও তীব্র গরম, কখনও ঝড়বৃষ্টি, আবার কখনও ধুলোঝড়ে বিপর্যস্ত হচ্ছে জনজীবন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি পরিবর্তনের এই সময়ে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে রাজধানীবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।