ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির মনিটরিং টিমের প্রকাশিত ৩৭তম রিপোর্টে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ–এর নাম উঠে এসেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার–এর কাছে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, তার সঙ্গে এই সংগঠনের যোগ থাকার অভিযোগ একটি সদস্য রাষ্ট্র জানিয়েছে। ওই বিস্ফোরণে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন বলে রিপোর্টে উল্লেখ আছে। এবার নয়া দিল্লি রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই প্রিতিবেদনকে সমর্থন জানিয়েছে।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মনিটরিং টিম জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সদস্য দেশের তথ্য অনুযায়ী, জইশ-ই-মহম্মদ সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং দিল্লির ওই বিস্ফোরণেও তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সংগঠনটির প্রধান মাসুদ আজহার ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর জাইশ-ই-মহম্মদের অন্তর্গত জামাত-উল- মুমিনাত নামে একটি মহিলা শাখা গঠনের ঘোষণা দেন। এই নতুন শাখার উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনের কার্যকলাপকে সম্প্রসারণ ও সহায়তা প্রদান করা। আন্তর্জাতিক মহলে এই পদক্ষেপকে উদ্বেগের চোখে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি জঙ্গি নেটওয়ার্ককে আরও সুসংগঠিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের বিদেশমন্ত্রক রিপোর্টটিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সাওয়াল জানান, সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এই রিপোর্টে প্রতিফলিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান যে গুরুত্ব পাচ্ছে, তা এই নথির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়া ও আফগানিস্তান অঞ্চলে সক্রিয় অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের কথাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার মত জঙ্গী সংগঠনের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় এবং আন্তর্জাতিক হামলার পরিকল্পনায় তাদের আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি হাক্কিনি নেটওয়ার্কের–এর প্রভাব ও তাদের সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগাযোগ সম্পর্কেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রিপোর্টে বলা হয়েছে, আইএস-খোরাসান উত্তর আফগানিস্তানে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রচারযন্ত্রকে আরও সক্রিয় করছে।
সার্বিকভাবে এই রিপোর্ট আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের পুনর্গঠন ও বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে যে আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ পাচ্ছিল, তা আরও একবার সামনে এল জাতিসংঘের এই রিপোর্টের মাধ্যমে। ভারতের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে সন্ত্রাস দমনে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে।
