ওঙ্কার ডেস্ক: ফরিদাবাদের বিস্ফোরক জঙ্গি চক্র ঘিরে নতুন তথ্য সামনে আনল তদন্ত। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসক শাহীনা সাঈদ গত দুই বছরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক এবং বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করেছিলেন। তদন্তকারীদের জেরায় শাহীনা স্বীকার করেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে এই বিপজ্জনক উপাদান মজুত করা হয়েছিল। সেই তালিকায় রয়েছে প্রায় ৩৬০ কিলোগ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, যা ফরিদাবাদের এক বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্রের খবর, শাহীনা মূলত লখনউয়ের বাসিন্দা হলেও বহুদিন ধরে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই হাসপাতালের আরও কিছু চিকিৎসক ও কর্মী এই সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে তদন্তকারী দল। ইতিমধ্যেই হাসপাতাল চত্বরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, শাহীনা এবং তাঁর সহযোগীদের লক্ষ্য ছিল একটি বড় মাপের নাশকতামূলক হামলা সংগঠিত করা। সাম্প্রতিক দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনাতেও এই চক্রের যোগ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান। সেই কারণেই দিল্লি ও ফরিদাবাদ দুই জায়গাতেই তৎপরতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
তদন্তের স্বার্থে আপাতত শাহীনা সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিশেষ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক রাজ্যে অভিযান চলছে। বিস্ফোরকগুলির উৎস, পাচারের পথ এবং আর্থিক যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা একযোগে কাজ শুরু করেছে যাতে কোনওভাবেই এই জাল জঙ্গি মডিউলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে না পারে। তদন্তকারীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মাটিতে বড়সড় হামলার ছক বানানো হচ্ছিল এবং শাহীনা সাঈদ সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করে গোটা চক্রের উদ্দেশ্য ও আন্তর্জাতিক যোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
