ওঙ্কার ডেস্ক : মহাকাশ অভিযানে যে কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল তা প্রযুক্তিগত ভাবে সফল হয়েছে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একথা বলেছেন আইএএফ গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। একজন ভারতীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এর ওই অভিযানে তিনিই প্রথম অভিযাত্রী। ওই অভিযানের ফলাফল নিয়ে তিনি খুবই উৎসাহিত বলেও জানিয়েছেন।
২৬শে জুন, শুক্লা দেশের প্রথম নভশ্চর হিসেবে মহাকাশের পরীক্ষাগারে পৌঁছান। আইএসএস-এ তার ১৮ দিনের অবস্থান কালে ইসরো পরিচালিত বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য কাজে ঠাসা পরিকল্পনা ছিল।
এদিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে শুক্লা একে “সমগ্র জাতির মিশন” বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সমস্ত প্রযুক্তিগত উদ্দেশ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাতটি ভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল। যার মধ্যে স্টেম সেল গবেষণা থেকে শুরু করে মহাকাশ স্টেশনে অঙ্কুরোদগম পর্যন্ত ছিল। এর মধ্যে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আমরা সেখানে থাকাকালীন ফিটব্যাক পাই। ফলাফল খুবই উৎসাহজনক।” তবে, তিনি এও উল্লেখ করেছেন, “কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য তথ্যগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।”
সে জন্যই “মহাকাশ স্টেশনে করা সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং তারপর ফ্রিজিং সিস্টেমে সেগুলি পৃথিবীতে নিয়ে আসা হয়েছে। এই অভযানে তিনি যা অনুভব করেছে তা এক কথায় অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন শুভাংশু। তিনি বলেন, “সমস্ত প্রশিক্ষণ সত্ত্বেও, যখন আপনি সেই রকেটে বসবেন, যখন সেই ইঞ্জিনটি জ্বলে উঠবে, আগুন ধরে যায়, তখন এটি একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন অনুভূতি। সেই সময় থেকে আমরা যখন নেমে আসি, তখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতাটি অবিশ্বাস্য ছিল। এটি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ এবং আশ্চর্যজনক ছিল যে আমি সত্যিই শব্দ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছিলাম যে আমি কীভাবে আপনাকে আমার কথার মাধ্যমে তা জানাবো যাতে আপনি এটি ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারেন।”
মিশন থেকে তার মূল বিষয়গুলি ভাগ করে নিতে গিয়ে শুক্লা বলেন “এই ধরণের একটি মানব মহাকাশ অভিযানের সাক্ষী হওয়া এবং সম্পাদন করা যে কোনো অভিযাত্রীকে প্রচুর জ্ঞান, প্রচুর তথ্য দেয়। অথচ তা এতই অস্পষ্ট যে তার পরিমাপ করতে পারবেন না। আপনি সবকিছু কাগজে লিখে রাখতে পারবেন না। অভিজ্ঞতাটি আপনি যা নথিভুক্ত করছেন বা বইয়ে লিখছেন তার চেয়ে অনেক বেশি এবং অনেক গভীর।”
