ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেওয়ায় কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে প্রশাসন। রাজধানীর বাতাসের মান দীর্ঘদিন ধরেই ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ পর্যায়ে পৌঁছনোয় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের চতুর্থ ধাপ কার্যকর করা হয়েছে, যার আওতায় যানবাহন সংক্রান্ত একাধিক কড়া নিয়ম চালু হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মানের নিচে থাকা পুরনো যানবাহনের দিল্লিতে প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএস-ভিআই মান পূরণ না করা গাড়ি রাজধানীতে ঢুকতে পারবে না। দিল্লির আশপাশের নোয়ডা, গাজিয়াবাদ, গুরুগ্রাম বা ফরিদাবাদ থেকে আসা বহু পুরনো গাড়িকে সীমান্তেই আটকে দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির বিভিন্ন প্রবেশপথে পুলিশ ও পরিবহণ দফতরের যৌথ নজরদারি চলছে। স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার সাহায্যে নিয়মভঙ্গকারী যান চিহ্নিত করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে চালু হয়েছে ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ নীতি। যেসব গাড়ির বৈধ পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট নেই, তাদের পেট্রোল, ডিজেল বা সিএনজি দেওয়া হচ্ছে না। পেট্রোল পাম্পগুলিতে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত পরীক্ষা চালাচ্ছে প্রশাসন। গাড়িচালকদের কাছ থেকে পিইউসি নথি দেখতে বলা হচ্ছে, না থাকলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
এই বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবনেও। দূষণ কমাতে অফিসগুলিকে কর্মীদের উপস্থিতি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন বা হাইব্রিড ক্লাস চালু হয়েছে। নির্মাণকাজ ও রাস্তার ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, শীতের মরসুমে ধোঁয়াশা ও স্থির বায়ুর কারণে দূষণ আটকে যাচ্ছে, যার সঙ্গে যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণজনিত ধুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। এই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে যান চলাচল কমানো এবং দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করাই মূল লক্ষ্য। তবে সাধারণ নাগরিকদের একাংশ মনে করছেন, নিয়ম মানতে গিয়ে ভোগান্তিও বাড়ছে। তবুও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে আপাতত এই কড়া সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি দিল্লি প্রশাসন।
