ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লিতে এক তরুণীর নৃশংস খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আতঙ্কজনক তথ্য। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের আচরণে স্পষ্ট সাইকোপ্যাথিক প্রবণতার ছাপ মিলেছে, যা এই ভয়াবহ অপরাধের পেছনে বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের মধ্যে সহানুভূতির অভাব এবং নিষ্ঠুর মানসিকতার পরিচয় স্পষ্ট। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার আচরণ ছিল অস্বাভাবিকভাবে শান্ত এবং স্থির। গোটা ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়েও তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা অপরাধবোধের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ঘটনাকে যেন একেবারে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছে সে, যা পুলিশকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির একটি আবাসিক এলাকায়। নিহত তরুণীকে একা পেয়ে অভিযুক্ত বাড়িতে প্রবেশ করে এবং পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত আগে ওই এলাকায় যাতায়াত করত বা কোনোভাবে পরিবারের রুটিন সম্পর্কে অবগত ছিল। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে সে এই অপরাধ সংঘটিত করে।
পুলিশের দাবি, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পনা করে ঘটানো হয়েছে। অপরাধের সময় এবং পরে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা, নিজের উপস্থিতি গোপন রাখা সব কিছুতেই তার হিসেবি মনোভাবের ছাপ স্পষ্ট। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ধরনের পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা সাধারণ অপরাধের চেয়ে অনেক বেশি উদ্বেগজনক। এছাড়াও, অভিযুক্তের অতীত আচরণ ও ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার মধ্যে আগে থেকেই কোনো অপরাধপ্রবণতা ছিল কি না, কিংবা মানসিকভাবে সে কতটা স্থিতিশীল এসব দিকও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইকোপ্যাথিক প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত অন্যের অনুভূতির প্রতি উদাসীন থাকে এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য চরম পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হয় না।
এই ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে, শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারির বিষয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।