ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির তুঘলকাবাদ এক্সটেনশন এলাকায় একটি বহুতল আবাসনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই তা ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। প্রাণ বাঁচাতে বহু বাসিন্দাকে হুড়োহুড়ি করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভবনের বেসমেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে একাধিক গাড়ি পার্ক করা ছিল। আগুন লাগার পর দ্রুত সেই গাড়িগুলিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রবল তাপ ও ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভবনের উপরের তলাগুলিতে পৌঁছে যায়। ফলে বহু মানুষ নিজেদের ফ্ল্যাটে আটকে পড়েন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ অভিযান। দমকলকর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকাজে পুলিশ ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার কর্মীরাও অংশ নেন। বেশ কয়েকজনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। মৃতদের মধ্যে একজন পুরুষ এবং দুই মহিলা রয়েছেন। এছাড়াও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের একটি দল আহতদের চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন জানালা ও বারান্দা দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অনেকেই সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা মই ও অন্যান্য সরঞ্জামের সাহায্যে বাসিন্দাদের নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট, বৈদ্যুতিক ত্রুটি অথবা অন্য কোনও কারণ এর পিছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং দমকল বিভাগ। ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় নি।