ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীজুড়ে। তবে তদন্তকারীদের প্রাথমিক মূল্যায়নে এই বিস্ফোরণকে কোনও পরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে নয়, বরং আতঙ্ক ও ত্রুটিজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ির ভেতরে রাখা বিস্ফোরক হঠাৎ সক্রিয় হয়ে পড়ায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের প্রভাবে আশপাশে কাচ ভেঙে যায়, একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লালকেল্লার পার্কিং এলাকার কাছে একটি সাদা হুন্দাই আই ২০ গাড়িতে বিস্ফোরণটি ঘটে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দা চিকিৎসক উমর নবি, যিনি ঘটনার তিন দিন আগে থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর ফোনও বন্ধ ছিল এবং কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন না। বিস্ফোরণের পর গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং চালকের দেহাংশ ঘটনাস্থলেই ছড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের পথচারীসহ অন্তত ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফরিদাবাদে কয়েকদিন আগে উদ্ধার হওয়া প্রায় ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরকের সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। তাদের ধারণা, সেই বিস্ফোরক মজুতকারীদের মধ্যে কয়েকজন পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এবং সম্ভবত কোনও আতঙ্ক বা ভুল হ্যান্ডলিংয়ের কারণে গাড়ির ভেতরে থাকা বিস্ফোরক অজ্ঞাতসারে সক্রিয় হয়ে যায়। বিস্ফোরণের ধরন বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এতে পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলার মতো কোনও চিহ্ন মেলেনি। ব্যবহৃত বিস্ফোরকটির তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল এবং কোনও শার্পনেল বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি।
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করেছে। গাড়ির নম্বরপ্লেট, ইঞ্জিন নম্বর এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণটি ঘটেছে গাড়ির পিছনের অংশে রাখা কোনও কেমিক্যাল মিশ্রণের কারণে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দিল্লির সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জারি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলির আশপাশে বাড়ানো হয়েছে পেট্রোলিং ও নজরদারি। যদিও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ালেও প্রশাসন জানিয়েছে, নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিস্ফোরকের উৎস এবং এর সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের খোঁজে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
