অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামার প্রস্তুতি শুরু করে দিল ডেমোক্র্যাট শিবির। তাদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
ডেমোক্র্যাট নেতারা জানিয়েছেন, এই তদন্তই হবে তাঁদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এখন তাঁরা সমন জারি করে যে কাউকে সাক্ষ্য দিতে ডাকতে পারবেন, নথিপত্র তলব করতে পারবেন। এই ক্ষমতাকেই এবার কাজে লাগাতে চাইছেন তাঁরা। শুক্রবার হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য জেমি রাসকিন এবং হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে সরাসরি এই তদন্তের আওতায় আসবেন না।
কেন নিশানায় কুশনার?
কুশনার সরকারের কোনও পদে নেই। তারপরও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনায় তিনি ‘প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত’ হিসেবে কাজ করছেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, একদিকে কুশনার আমেরিকার কূটনীতি সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী সংস্থা অ্যাফিনিটি পার্টনার্স সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না বলে দাবি তাঁদের। গার্সিয়া শুক্রবার বলেন, ট্রাম্প পরিবারের বিরুদ্ধে অনেক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সেগুলোর তদন্ত হবেই।
ডেমোক্র্যাটদের ধারণা, ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর রিপাবলিকান শিবিরের একাংশও ট্রাম্পের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে তদন্তে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই রিপাবলিকানদের একাংশ ট্রাম্প জমানার নানা অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
ঘটনাচক্রে, গত অক্টোবরে মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের বইয়ের একটি অংশ ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয়, নেদারল্যান্ডসের গোয়েন্দারা কুশনারের হ্যাক হওয়া ফোন থেকে কয়েকশো কোটি ডলারের গোপন আর্থিক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন। সেগুলি পশ্চিম এশিয়ার কয়েকজন প্রভাবশালীর সঙ্গে যুক্ত।
ডেমোক্র্যাটরা এই গুরুতর অভিযোগটিও খতিয়ে দেখছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও কুশনারের আইনজীবীরা সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে শুধু কুশনারই নন। তদন্তের তালিকায় রয়েছেন ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রও। তাঁর কিছু সন্দেহজনক ব্যবসায়িক লেনদেন খতিয়ে দেখা হবে। চলতি বছরের শুরুতে বাহামাসে তাঁর বিবাহ-পরবর্তী অনুষ্ঠানের আংশিক খরচ রাশিয়ার ধনকুবের উমার ক্রেমলেভ বহন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রেমলেভ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ট্রাম্পের আর এক জামাই মাইকেল বোলোসের ব্যবসায়িক লেনদেনও তদন্তের তালিকায় রয়েছে বলে প্রকাশিত খবরে দাবি।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রভাব খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি চলছে। আলোচনায় রয়েছে বিতর্কিত জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত পুরনো নথির প্রসঙ্গও। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের পাকিস্তানে ব্যবসায়িক যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের নিশানায় আসতে পারে।
পাকিস্তানে ৪৪০ কোটি ডলারের প্রকল্প
চলতি মাসের গোড়াতেই পাক সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনপুষ্ট মার্কিন কোম্পানিগুলির একটি কনসোর্টিয়াম পাকিস্তানে ৪৪০ কোটি ডলারের একটি সমন্বিত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকাশিত খবরে দাবি, এই আলোচনায় রয়েছেন ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার এবং মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক। এই বিষয়টিও ডেমোক্র্যাটদের নজরে রয়েছে।