ওঙ্কার ডেস্ক: কংগ্রেসের অন্দরমহলে ফের অস্বস্তি। দলের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিংহের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যার জেরে বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি নিজ দলের মধ্যেও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে দিগ্বিজয় সিংহের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক দানা বাঁধে। ওই পোস্টে তিনি বিজেপি ও আরএসএসের সংগঠনগত শক্তির কথা উল্লেখ করেন এবং কীভাবে সেই সংগঠনের কর্মীরা ধাপে ধাপে শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছতে পারেন, সে প্রসঙ্গ টানেন। এই বক্তব্য অনেকের কাছেই বিজেপি-আরএসএসের প্রশংসা বলে মনে হওয়ায় কংগ্রেসের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
দিগ্বিজয় সিংহের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিজেপি এই সুযোগে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে এবং দাবি করে, বিরোধী দল নিজেই তাদের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্ত। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাই এখন স্বীকার করতে শুরু করেছেন যে আরএসএস-বিজেপির সংগঠনই দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী। এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের অন্দরে এই মন্তব্য নিয়ে দ্বিমত স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলের একাংশ মনে করেন, দিগ্বিজয় সিংহের বক্তব্যের ব্যাখ্যা ভুলভাবে করা হয়েছে এবং তিনি আদর্শগতভাবে বিজেপি বা আরএসএসকে সমর্থন করেননি। পরে দিগ্বিজয় সিংহ নিজেও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি আরএসএস ও বিজেপির মতাদর্শের বিরোধী। তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সংগঠনের শক্তি ও শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরা, কোনওভাবেই প্রতিপক্ষের আদর্শকে সমর্থন করা নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, গান্ধী হত্যার সঙ্গে যুক্ত মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর কোনও সহমত নেই।
তবে এই ব্যাখ্যাতেও পুরোপুরি থামেনি বিতর্ক। কংগ্রেসের একাধিক নেতা প্রকাশ্যে বলেন, আরএসএসের সঙ্গে তুলনা টেনে সংগঠন শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া দলের ঐতিহ্য ও আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আবার দলের অন্য অংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কংগ্রেসকে সংগঠনগতভাবে আরও মজবুত হওয়ার কথা ভাবতেই হবে, যদিও আদর্শগত অবস্থান অটুট রাখা জরুরি।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কংগ্রেস ইতিমধ্যেই সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে। ফলে দিগ্বিজয় সিংহের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিরোধী শিবিরের মোকাবিলায় কংগ্রেসকে যেমন সংগঠন মজবুত করার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে, তেমনই আদর্শগত অবস্থান নিয়ে দলের ভিতরেই ঐক্য বজায় রাখাও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
