ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির দরবারে হাজির বাংলার বিজেপির বিতর্কিত নেতা দিলীপ ঘোষ। রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ঘিরে অস্বস্তি চলছে, এ নতুন কথা নয়। তবে এবার সেই অস্বস্তি যে বঙ্গ বিজেপির সীমা ছাড়িয়ে রাজধানীর অলিন্দে পৌঁছে গেছে, তা শুক্রবারের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে সরকারি কর্মসূচি ও জনসভায় অংশ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই দিলীপ ঘোষ দিল্লির পথে। সকালেই বিমানে উড়ে গিয়ে রাজধানীর মাটিতে পা রাখেন তিনি। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ের বিশ্রাম সেরে দুপুরের দিকে সোজা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
গোলাপি রঙের অর্ধহস্ত কুর্তায় সজ্জিত দিলীপ ঘোষ যখন ৭ নম্বর মতি লাল নেহরু মার্গের বাংলোর গেটে পৌঁছন, তখন অনেকেরই কৌতূহল চরমে ওঠে। কিন্তু সেখানে গাড়ি ঢোকার পর মাত্র পাঁচ মিনিটেই তা বেরিয়ে আসে কারণ সেই সময় নাড্ডা বাড়িতেই ছিলেন না। দিলীপ বেরিয়ে সাংবাদিকদের জানান, সভাপতি বাড়িতে নেই, বিকেলে আসতে বলেছেন।
প্রশ্ন উঠছে, এই তড়িঘড়ি তলবের পেছনে কী বার্তা লুকিয়ে আছে? সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে হেরে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। রাজ্য সংগঠনে এখন কার্যত কোনও পদ নেই তাঁর হাতে। ফলে পুরনো দাপট হারিয়ে তিনি কার্যত কোণঠাসা। দলের অন্দরের অনেকেই বলছেন, দিলীপের মধ্যে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা সঙ্ঘ পরিবার থেকে উঠে আসা নেতাদের ক্ষেত্রে বিরল।
এদিকে কেন্দ্রের বিজেপি শিবিরের খবর, দিলীপ ঘোষকে নতুন করে কোনও দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে প্রায় নেই বললেই চলে। সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার নিজের অবস্থানই স্থায়ী নয়। তাই এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনও পদ দেওয়ার ক্ষমতা নাড্ডার হাতেও নেই বলেই শোনা যাচ্ছে। আগামী দিনে সর্বভারতীয় নেতৃত্বে রদবদল হলে তবেই নতুন সভাপতি আসার পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দিলীপের ভাগ্যে কিছু জুটতে পারে। দীর্ঘদিন আরএসএস-এর সক্রিয় প্রচারক হিসাবে কাজ করেছেন দিলীপ ঘোষ। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন ভরসার জায়গা দিতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের ঢেলে সাজানোর কাজে সঙ্ঘের হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। রাজ্যে প্রায় বিস্মৃত নেতা অসীম ঘোষকে রাজ্যপালের আসনে বসানোই তার বড় প্রমাণ। ফলে সঙ্ঘ যদি চায়, তবে দিলীপ ঘোষকে ভবিষ্যতে নতুন ভূমিকায় ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে সেখানেও বাধা রয়ে গেছে — সম্প্রতি দিলীপের কিছু মন্তব্য ও আচরণ সঙ্ঘ নেতৃত্বেরও কপালে ভাঁজ ফেলেছে। তাই আচরণে শৃঙ্খলা আনার বার্তাই এখন দিলীপের ঝুলিতে যেতে পারে।
