সূর্য্যজ্যোতি পাল, কোচবিহার : সম্প্রতি বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লী পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে দিন হাটার সাবেক ছিট মহলের সাত বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের মুক্তির দাবিতে মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য চেয়েছে পরিবারের বাকি সদস্যরা। পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশী সন্দেহে দিল্লি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করেছে। এরপরই পরিবারের তরফ থেকে দিনহাটা থানায় আটক করা ব্যক্তিদের সমস্ত বৈধ কাগজপত্র জমা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি দিনহাটা থানা থেকে দিল্লির শালিমার থানায় সমস্ত কাগজপত্র পাঠানোর পরেও দিল্লী পুলিশ তাদেরকে এখনো ছাড়েনি বলে জানা গেছে। সেই কারণেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন দিনহাটা মহকুমা প্রসার শখের কাছে ডেপুটেশনের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
এদিন দিনহাটা মহকুমার শাসকের দপ্তরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বদের সাথে নিয়ে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যরা যাতে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে সেই কারণেই ডেপুটেশন পত্র জমা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশি সন্দেহে ৫ দিন আগেই দিল্লির শালিমার থানা পুলিশের হাতে আটক হয় তিন শিশু এক মহিলা সহ ৮ জুন দিনহাটার সাবেক ছিট মহলের বাসিন্দা। যদিও আটজনের মধ্যে দিল্লী পুলিশ একজনকে ছেড়ে দেয়। এখনো পর্যন্ত পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় রয়েছে তিন শিশু এক মহিলা সহ সাতজন। পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেছে শুধু আটক করা হয়নি আটক এর উপর তাদের উপর চলছে নির্যাতন।
পরিবারের লোকেদের এই অভিযোগ কে মান্যতা দিয়ে গতকালই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী উদয়ন গুহ বলেছিলেন যারা দিল্লিতে কাজ করতে যান যদি তারা বাংলায় কথা বলেন এবং তাদের ধর্ম যদি মুসলমান হয় তাহলে তাদেরকে বাংলাদেশী ট্যাগ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন এটা কেন্দ্র সরকারের দ্বিচারিতা। যে লোকগুলোকে আটক করা হয়েছে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় তোলার কোন প্রশ্নই আসে না কারণ তারা ঐতিহাসিক ছিট মহল বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে ভারতের নাগরিকত্ব লাভ করেছিল।
তবে এখন দেখার পুলিশ প্রশাসন এবং মহকুমা শাসকের যৌথ প্রচেষ্টায় কবে দিনহাটার ওই ৭ বাসিন্দা দিল্লি পুলিশের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরে। যতদিন না তারা বাড়ি ফিরছে চিন্তায় আছে পরিবারের লোকজনরা।
