ওঙ্কার ডেস্ক: আলোয় আলোকিত গোটা দেশ। উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। পুজো, প্রদীপ, আলোকসজ্জা, মিষ্টি আর মিলনমেলার আবহে রবিবার রাতে সারা দেশে পালিত হল দীপাবলি উৎসব। তবে আনন্দের মধ্যেও ছিল সচেতনতার সুর। দিল্লি থেকে কলকাতা, বিভিন্ন রাজ্যে দূষণ রোধে জারি ছিল বিশেষ নির্দেশিকা যাতে উৎসবের সময় সবাই আনন্দ উপভোগ করতে পারে দূষণের চিন্তা ছাড়া।
দিল্লিতে এবারের দীপাবলি ছিল কিছুটা আলাদা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সীমিত পরিসরে ‘গ্রিন ক্র্যাকার’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল রাজধানীতে। ফলে কড়া নিয়ম মেনে বহু এলাকায় বাজি ফোটানো হলেও, দূষণের মাত্রা বেড়েছে যথেষ্ট। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দীপাবলির পরদিন বিকেল পর্যন্ত দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স পৌঁছে যায় ৩৪৫–এ, যা ‘অত্যন্ত খারাপ’ শ্রেণির অন্তর্গত। রাজধানীর ৩৮টি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টিই ‘রেড জোনে’ পৌঁছেছে। দ্বারকা, অশোক বিহার, ওয়াজিরপুরের মতো অঞ্চলে ৪০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
অন্যদিকে কলকাতাতেও উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের সর্বত্র আলোয় সেজে উঠেছিল বাড়িঘর, বাজার, মন্দির ও রাস্তা। হাই কোর্টের নির্দেশে রাত আটটা থেকে দশটার মধ্যে সীমিত সময়ের জন্যই বাজি ফোটানোর অনুমতি থাকলেও, বহু এলাকায় সেই নির্দেশ ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কন্ট্রোল রুমে রাত সাড়ে ন’টার মধ্যে প্রায় ১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার বেশিরভাগই বাজি-সংক্রান্ত।
দীপাবলির রাতে কলকাতার বায়ুমান তুলনামূলকভাবে ভাল থাকলেও, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকে। সিপিসিবি-র তথ্য অনুযায়ী, রাত আটটায় বালিগঞ্জে ছিল ৮৫, জাদবপুরে ১০৬, ভিক্টোরিয়া এলাকায় ১৪০। রাত এগারোটার মধ্যে সেই মাত্রা বেড়ে যথাক্রমে ১০৪, ১২৪ ও ১৫৩-এ পৌঁছে যায়। অর্থাৎ, কলকাতা দিল্লির মতো ‘রেড জোনে’ না পড়লেও, দূষণের প্রভাব থেকে রেহাই মেলেনি মহানগরবাসীর।
এই পরিবেশ-চিন্তার মাঝেও দীপাবলির মূল বার্তা হল আলো, ঐক্য ও আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। রাজধানীর কনট প্লেস থেকে শুরু করে মুম্বই, গৌহাটি, শ্রীনগর, চণ্ডীগড়, সর্বত্র ঝলমলে আলোয় ভরে উঠেছে রাতের আকাশ। এমনকি সীমান্তে দায়িত্বে থাকা জওয়ানরাও প্রদীপ জ্বেলে, মিষ্টি বিনিময় করে পালন করেছেন দীপাবলি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এবারে ভিন্নভাবে পালন করেছেন উৎসব। গোয়ার উপকূলে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস বিক্রান্ত’-এ নৌসেনা জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্যাপন করেন তিনি। আলোয়, শক্তিতে ও ঐক্যে ভরা এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে।
