আলোর উৎসব দীপাবলি। চারদিকে আলোর রোশনাই, আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দে মেতে ওঠেন ছোট থেকে বড় সকলেই। তবে আনন্দের মাঝেই লুকিয়ে থাকে বিপদের আশঙ্কা। সামান্য অসাবধানতায় বাজির আগুনে হাত-পা পুড়ে যেতে পারে। তাই বাজি পোড়ানোর সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা করবেন, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
১. পোড়া জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে জল দিন
বাজির আগুনে হাত বা পা পুড়ে গেলে প্রথমেই আক্রান্ত স্থানটি ঠান্ডা প্রবাহমান জলের নিচে অন্তত ২০ মিনিট রাখুন। এতে ত্বকের তাপমাত্রা কমবে এবং পোড়ার ক্ষতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে বরফ বা অতিরিক্ত ঠান্ডা জল ব্যবহার করবেন না।
২. আঁটসাঁট জিনিস খুলে ফেলুন
পোড়া জায়গায় ফোলা শুরু হওয়ার আগেই আংটি, ঘড়ি, চুড়ি, জুতো বা আঁটসাঁট পোশাক খুলে ফেলুন। তবে পোড়া ত্বকের সঙ্গে কাপড় লেগে গেলে জোর করে টানবেন না।
৩. পোড়া স্থানে কিছু লাগাবেন না
অনেকেই পোড়া জায়গায় টুথপেস্ট, তেল, ঘি, হলুদ বা মাখন লাগান। এটি একেবারেই উচিত নয়। এসব উপাদান সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং চিকিৎসায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফোসকা পড়লে সেটিও ফাটাবেন না।
৪. পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন
প্রাথমিকভাবে জল দিয়ে ঠান্ডা করার পর পোড়া জায়গাটি পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত, নন-স্টিক ড্রেসিং বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আলতোভাবে ঢেকে রাখুন। আক্রান্ত স্থানে চাপ দেবেন না।
৫. কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
পোড়া জায়গায় বড় ফোসকা পড়লে, ত্বক সাদা বা কালচে হয়ে গেলে, অসহ্য যন্ত্রণা হলে কিংবা মুখ, চোখ, হাত, পা বা যৌনাঙ্গ পুড়ে গেলে দ্রুত হাসপাতালে যান। বড় অংশ পুড়ে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা বাজির বিস্ফোরণে গুরুতর আঘাত লাগলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য পোড়াকেও অবহেলা করবেন না।
উৎসব হোক নিরাপদ ও আনন্দময়
মনে রাখবেন, পোড়ার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাজি পোড়ানোর সময় জল ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা কাছে রাখুন। শিশুদের কখনও একা বাজি পোড়াতে দেবেন না। খোলা জায়গায় বাজি পোড়ান এবং দাহ্য বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
সামান্য সচেতনতা ও সঠিক সময়ে চিকিৎসাই বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে। আনন্দের দীপাবলিতে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার দায়িত্ব আপনারই।