ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা রক্ষার দায়িত্বে থাকা যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থা নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড বা নোরাড গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক সামরিক বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নোরাডের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিমান মোতায়েন কোনও আকস্মিক সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পিত একটি কার্যক্রমের অংশ। আর্কটিক অঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম অংশে অবস্থিত পিটুফিক স্পেস বেস দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই ঘাঁটি থেকে আর্কটিক অঞ্চল এবং উত্তর আটলান্টিকের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। বিশেষ করে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা আকাশপথে আসা যে কোনও হুমকি দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নোরাড জানিয়েছে, পাঠানো বিমানগুলি মূলত প্রশিক্ষণ, নজরদারি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নেবে।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে শুরু করায় আর্কটিক এলাকায় নতুন নৌপথ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিন-সহ একাধিক শক্তিধর দেশ এই অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই নোরাডের এই বিমান মোতায়েনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সক্রিয় রাখার প্রয়াস হিসেবেই দেখছে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে এই ধরনের সামরিক তৎপরতা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ডেনমার্ক সরকারকে আগাম জানানো হয়েছে বলে নোরাডের তরফে দাবি করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান টানাপড়েনের মধ্যে এই বিমান পাঠানোকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলেও কৌতূহল বেড়েছে।
নোরাড স্পষ্ট করেছে, এই মোতায়েন কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। বরং উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং আর্কটিক অঞ্চলে সম্ভাব্য যে কোনও হুমকির মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাই করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা যে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
