ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী বছরে ভারতে সফরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে তিনি ‘খুবই ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেছেন। ওয়াশিংটনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “নরেন্দ্র মোদি আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তিনি চান আমি ভারতে যাই। দেখা যাক, হয়তো আগামী বছরই যাওয়া হবে”। জানা গিয়েছে, মোদি–ট্রাম্প আলোচনায় মূল বিষয় ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং শক্তি আমদানি সংক্রান্ত ইস্যু।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর পদক্ষেপকে তিনি প্রশংসা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভারত এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীলভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনা করছে। রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো একটা বড় সিদ্ধান্ত।” উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্য ঘাটতি ও আমদানি–রপ্তানি ভারসাম্য বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত তার বাজার আরও উন্মুক্ত করুক, অন্যদিকে ভারত চায় মার্কিন শুল্কনীতিতে কিছু ছাড় ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুবিধা। এই প্রেক্ষিতেই মোদি–ট্রাম্পের আলোচনাকে ভবিষ্যতের বাণিজ্য সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য কাঠামো তৈরির কাজ চলছে, যা আগামী বছর গুলির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাস্তবায়িত হলে তা শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। ভারতের জন্য এই সফর একদিকে যেমন মার্কিন বিনিয়োগ ও বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট কবে ভারত সফরে আসবেন তার তারিখ বা সময় নির্দিষ্ট হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, সবকিছু নির্ভর করছে চলমান আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ভারত সফর দুইদেশের মধ্যে চলমান বানিজ্য অসন্তোষকে কিছুটা হলেও কমাবে। এবং ওয়াশংটনের লাগানো মাত্রাতিরিক্ত শুল্কের ব্যাপারেও আলোচনা হতে আপ্রে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও শক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রগুলোতে এই সম্পর্ক আগামী দিনে আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
