ওঙ্কার ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের আলোচনার কেন্দ্রে। রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য নিয়ে বারবার সমালোচনার সুর চড়ালেও, ভারতের ক্ষেত্রে সুর নরম রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং দিল্লির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাই জোর দিয়ে বললেন তিনি।
ব্রিটেনে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও খুব ভাল সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক দিন আগেই ফোন করে জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।” একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক ‘খুব ভালো এবং উষ্ণ’।
রাশিয়ার তেল রপ্তানি নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগের তীর মূলত ইউরোপ ও চিনের দিকে ছুটেছে। তাঁর দাবি, আমেরিকার একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কসত্ত্বেও চিন রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে এবং অর্থ দিচ্ছে। ইউরোপীয় দেশগুলিও সেই পথে হাঁটছে। কিন্তু ভারতের নাম উচ্চারণ করলেও, সেভাবে সমালোচনা করেননি ট্রাম্প। বরং কূটনৈতিকভাবে ভারতকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতই দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, তেলের দাম যতটা কমবে, রাশিয়া ততটাই আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হবে। তাঁর মতে, এটাই মস্কোর উপর চাপ তৈরির সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
এদিকে, রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আমেরিকার হুঁশিয়ারিকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ভারত ও চিনের মতো প্রাচীন সভ্যতা যুক্ত দেশগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে লাভ হবে না। আমেরিকা যতই হুঁশিয়ারি দিক, ভারত রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করছে না। বরং ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের হুমকি রাশিয়ার অর্থনীতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলছে না বলেই তাঁর দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসলে কূটনৈতিক কৌশল। তিনি একদিকে ইউরোপ ও চিনকে চাপে রাখছেন, অন্যদিকে ভারতকে পাশে রাখার চেষ্টা করছেন।
