নিজস্ব সংবাদদাতা: ইরানে ফের বড়সড় সামরিক অভিযান চালাতে পারে আমেরিকা। শুক্রবার ফ্লোরিডার এক সভা থেকে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, “আমরা হয়তো আবার বড়সড় কোনও হামলা চালাব।”
নভেম্বরে আমেরিকায় মিড-টার্ম নির্বাচন রয়েছে। ভোট না মেটা পর্যন্ত ওয়াশিংটন নতুন করে কোনও পদক্ষেপ করছে না, তবে ভোট মিটলেই পশ্চিম এশিয়ায় ফের যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা। তেহরানও তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরান ইতিমধ্যেই পাল্টা রণকৌশল সাজিয়েছে। তাদের দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তারগুলি সমুদ্রের নীচ দিয়ে গিয়েছে এবং তার উপর তেহরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আমেরিকা বা ইজরায়েল নতুন করে হামলা চালালে সমুদ্রের নীচে থাকা ওই ইন্টারনেট ও যোগাযোগের কেবল ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর ফলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হবে, যা দ্রুত মেরামত করাও সম্ভব হবে না।
ট্রাম্পের অভিযোগ, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতায় তেহরানের অনীহা রয়েছে। তিনি বলেন, “ওরা যদি বুদ্ধিমান হত, বলত ‘চলো ব্যবসার কথায় আসা যাক’। কিন্তু ওরা হয়তো সেটা করবে না। কারণ, ওরা বুদ্ধিমান নয়।” অন্য এক সভায় তিনি বলেন, “আমরা সংঘাত খুব দ্রুত শেষ করতে পারি। কিন্তু আমরা সেটা করতে চাই কি না, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দেব কি না, সেটাই প্রশ্ন।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনীর হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ওই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করেছে ইরান। গত আট মাসে একাধিকবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি। যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম বাড়ছে। আমেরিকার ভিতরেও ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নভেম্বরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, তা এই ভোটেই ঠিক হবে।