ওঙ্কার ডেস্ক: আগামী অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একান্ত বৈঠকের। যদিও এই মুহূর্তে কোনও পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে আন্তর্জাতিক মহল জোর জল্পনা করছে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ নিয়ে।
গত কয়েক মাস ধরেই ভারত-মার্কিন সম্পর্কে শুল্কনীতি ও বাণিজ্য ঘিরে টানাপোড়েন চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বেশ কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে চাপ তৈরি হয়। বিরূপ প্রভাব পড়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের সুর কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আসিয়ান সম্মেলন বরাবরই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতির বড় মঞ্চ। ১০টি রাষ্ট্রের সংগঠনটি এখন এশিয়ার বাণিজ্য ও কূটনীতির প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে মোদীর অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও ভারতের তরফে আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে।
মোদী-ট্রাম্প বৈঠক যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নীতি। শুল্ক, বাজারে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত কথা হতে পারে। পাশাপাশি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষার মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে এই বৈঠক বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
এই সম্ভাব্য সাক্ষাতের সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ভারতের অংশগ্রহণ এখনও নিশ্চিত নয়। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্য ঘিরে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা মেটানো সহজ হবে না। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মঞ্চে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি হবে।
