ওঙ্কার ডেস্ক : ইতিমধ্যেই ভারতীয় আমদানির উপর ৫০ শতংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ জরিমানাও। এরপরও শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে আরও কড়া পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার তিনি ঘোষণা করেছেন, এ বছর ১ অক্টোবর থেকে ভারতের ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্ট ওষুধ আমদানির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এতদিন ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারকরা আমেরিকার বাজারের উপর সবচেয়ে বেশী নির্ভর করতো। সেখানে এই শুল্কের চাপে বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি।
এই প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া X-এ ট্রাম্প জানিয়েছেন, “১ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে আমরা যে কোনো ব্র্যান্ডেড বা পেটেন্ট করা ওষুধ পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব, যদি না কোনও কোম্পানি আমেরিকায় তাদের ওষুধ উৎপাদন কারখানা তৈরি করে”
ট্রাম্পের পোস্টগুলি থেকে মনে করা হচ্ছে যে শুল্ক নিয়ে তিনি গত আগস্ট থেকে যে ভাবে তৎপর হয়েছেন তা শুধু বাণিজ্য কাঠামো এবং আমদানি করের মধ্যেই শেষ হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, এর ফলে সরকারের বাজেট ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। ট্রাম্প ওই পোস্টে আরও জানিয়েছেন “IS BUILDING-কে ‘ব্রেকিং গ্রাউন্ড’ এবং/অথবা ‘নির্মাণাধীন’ হিসাবে দেখা হবে। অতএব, যদি ওই সংস্থাগুলি আমেরিকায় নির্মাণ শুরু করে তবে তাদেরধ পণ্যগুলির উপর কোনও শুল্ক থাকবে না।”
তার সর্বশেষ শুল্ক পরিকল্পনায়, ট্রাম্প রান্নাঘরের ক্যাবিনেট এবং বাথরুম ভ্যানিটি আমদানিতে ৫০ শতাংশ, গৃহসজ্জার সামগ্রীর উপর ৩০ শতাংশ এবং ভারী ট্রাকের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। ট্রাম্প শুল্কের জন্য কোনও আইনি যুক্তি না দিলেও “জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণে” কর প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে তার ভূমিকার সীমা বাড়াতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের ওষুধজাত পণ্যের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হল আমেরিকা। শিল্প সংস্থা ফার্মাসিউটিক্যালস এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার তথ্য অনুসারে, ২০২৪ আর্থিক বছরে ভারতের ২৭.৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওষুধ রপ্তানির ৩১ শতাংশ বা ৮.৭ বিলিয়ন ডলার (৭৭,১৩৮ কোটি টাকা) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে আরও ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (৩২,৫০৫ কোটি টাকা) মূল্যের ওষুধ রপ্তানি করা হয়েছে। আমেরিকায় ব্যবহৃত ৪৫ শতাংশেরও বেশি জেনেরিক এবং ১৫ শতাংশ বায়োসিমিলার ওষুধ সরবরাহ করে ভারত। ডঃ রেড্ডি’স, অরবিন্দ ফার্মা, জাইডাস লাইফসায়েন্সেস, সান ফার্মা এবং গ্ল্যান্ড ফার্মার মতো সংস্থাগুলি তাদের মোট আয়ের ৩০-৫০ শতাংশ আমেরিকান বাজার থেকে আয় করে বলে জানা গেছে।
যদিও ট্রাম্পের এই আরোপিত শুল্ক মূলত ব্র্যান্ডেড এবং পেটেন্টযুক্ত ওষুধগুলিকে লক্ষ্য করে, তাই- ভারত থেকে আসা জটিল জেনেরিক এবং বিশেষায়িত ওষুধগুলিও এর আওতায় থাকবে কিনা তা নিয়ে নিশ্চিত করে এখনই বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া, বৃহৎ সংস্থাগুলির ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। আমেরিকার উপভোক্তারা ভারতে উৎপাদিত কম দামের জেনেরিক ওষুধের উপর নির্ভরশীল। তাই উচ্চ শুল্কের ফলে দেশে দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং ওষুধের ঘাটতির সম্ভাব্য দিকগুলি নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখবে মার্কিন প্রশাসন।
