ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়ের করা ১৫ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা শেষ পর্যন্ত খারিজ করল ফ্লোরিডার ফেডারেল আদালত। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে উদ্দেশ্য করে দায়ের করা এই মামলায় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সংবাদপত্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু আদালতের মতে, অভিযোগে যথাযথ প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং আদালত কোনও ব্যক্তিগত আক্রোশ প্রকাশের জায়গা নয়।
ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, নিউ ইয়র্ক টাইমস তিনটি পৃথক প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করেছে এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে। এমনকি কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ আনেন যে, তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে আঘাত করার চেষ্টা করেছেন। এর ভিত্তিতেই ট্রাম্প ১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন।
ফ্লোরিডা ফেডারেল আদালতের বিচারপতি স্টিভেন মেরিডে মামলাটি খারিজ করার সময় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মানহানির মামলা দায়ের করতে হলে অভিযোগের প্রকৃতি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা জরুরি। তাঁর মন্তব্য, “আদালত কখনও আক্রোশ উগরে দেওয়ার মঞ্চ হতে পারে না। অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার চলবে।”
নিউ ইয়র্ক টাইমস এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। সংবাদপত্রটির তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের মামলা মূলত ভয় দেখানোর কৌশল ছিল, যাতে সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারেন। আদালতের রায় আবারও প্রমাণ করল, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষিত রয়েছে। আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় মার্কিন গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
