নিজস্ব সংবাদদাতা : নবান্ন অভিযানে মিছিলে পুলিশের লাঠির আঘাতে জখম হলেন অভয়ার মা। তাঁর অভিযোগ, রাস্তায় তাঁদের গাড়ি বারবার আটকানো হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি করতে করতে ধর্মতলায় পৌঁছোলে পুলিশ লাঠি চালায়। বিজেপির অভিযোগ, মেয়েকে মারা হয়েছে, এবার তাঁর মাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধর্মতলা ও মেয়ো রোডে পুলিশের লাঠিচার্জ কারে। এরফলে গোটা এলাকা জুড়ে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পার্ক স্ট্রিট থেকে নবান্ন অভিযানে যোগ দেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের লাঠিচার্জের পর তিনি রেস কোর্সের ধারে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন, সঙ্গে ছিলে অগ্নিমিত্রা পাল ও অন্যান্য বিজেপি নেতারা।
শনিবার নির্যাতিতার মা-বাবার নবান্ন অভিযানের ডাকে সাড়া দিয়ে এই আন্দোলন কর্মসূচিতে যোগ দেয় বিজেপি। ধর্মতলা থেকে যে মিছিলটি নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেয় তাতে যোগ দেন নির্যাতিতার মা-বাবা। বেলা ১২টা নাগাদ মিছিল পার্কস্ট্রিট হয়ে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেয়। মিছিল পার্ক স্ট্রিট মোড়ে আসতেই পুলিশ বাধা দেয়। এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তাতেই নির্যাতিতার মা আঘাত পান বলে দাবি। অভিযোগ, ধস্তাধস্তির সময় মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে। কপাল ফুলে যায়, হাতের শাঁখা ভাঙে। তবে পুলিশি বাধার মুখে পড়লেও নবান্ন যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা অনড়। পার্কস্ট্রিট মোড়ে ধস্তাধস্তির ঘটনার পর তিরিশ চল্লিশ জন সহযাত্রী নিয়ে নির্ধারিত পথ ধরেই হাঁটতে থাকেন নির্যাতিতার মা-বাবা। সেই মিছিলে হাঁটেন বিজেপি নেতা কৌস্তুভ বাগচী এবং প্রীতম দত্ত। তাঁরা রেসকোর্সের পাশ দিয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর র্যাম্পের দিকে এগোতে থাকেন।
এদিনই নির্যাতিতার বাবা-মার ডাকা মিছিলকে সমর্থন করে পথে নেমছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও মিছিলে হাঁটছেন দলীয় পতাকা ছাড়া। যদিও পুলিশের তরফে শুভেন্দু অধিকারীকে পার্কস্ট্রিটে আটকে দেওয়া হয়েছে। এর পর পথে বসে পড়েন তিনি। রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিরোধী দলনেতা। উল্লেখ্য, শুক্রবার কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়, নবান্ন এবং ওই প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত করা যাবে না। শুধু তাই নয় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কালীঘাটেও বিক্ষোভ-মিছিল করা যাবে না। পুলিশের দাবি, নবান্ন অভিযানের জন্য আগেভাগে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। সেই ঘটনায় তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সঞ্জয় রাই নামের এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। কিন্তু নারকীয় এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত বলে নির্যাতিতার পরিবারের দাবি।
