ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিশেষ রোল অবজার্ভার পদে দায়িত্ব নিতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গ-ক্যাডারের ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার ড সুব্রত গুপ্ত। তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন। এই পদ থেকে তিনি ৩১ মে, ২০২৫ তারিখে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর নির্বাচন কমিশনে সুব্রত গুপ্তের নিয়োগ স্বাভাবিক ভাবেই বিতর্কের সৃষ্টি করেছে রাজ্য রাজনীতি মহলে।
প্রসঙ্গত, ড সুব্রত গুপ্তের প্রশাসনিক জীবনযাত্রা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আইআইটি খড়গপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ও লন্ডন থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে তিনি শুরু থেকেই দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের নজির স্থাপন করেছেন। তবে গত কয়েক বছরে তাঁকে রাজ্য সরকার তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ দফতরে নিয়োজিত করেছিল। এক সময় আশা করা হয়েছিল হয়ত ড. সুব্রত গুপ্তই রাজ্যের মুখ্য সচিবের পদ সামলাতে পারেন। কিন্তু রাজ্যের শাসকদল তাঁকে সেই পদ দেয়নি, বরং বারবার তাঁকে অন্য দফতরে পদ দেওয়া হতে থাকে। এমনকি ড. গুপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকে ডেপুটেশনে যাওয়ার আর্জিও জানান। কিন্তু সেখানেও তাঁকে ছাড়পত্র দিতে বিলম্ব করেছিল রাজ্য সরকার।
সুব্রত গুপ্তের কর্মজীবনে উদ্যানপালন ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো বিভাগে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। একই সময়ে অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে থাকা বেশ কয়েকজন জুনিয়র আমলাকে গুরুত্বপূর্ণ দফতর দেওয়া হয়েছিল বলে প্রশাসনের একাংশ অভিযোগ তোলে। এতে রাজ্য আমলাতন্ত্রে বিতর্ক ছড়ায় এবং বহু কর্মকর্তা মনে করেন, সুব্রত গুপ্তের দক্ষতা যথাযথ জায়গায় ব্যবহার করা হলে রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও এগোতে পারত।
তারপরও তাঁর কাজের মান ও পেশাদারিত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, ড. গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য ও কেন্দ্র দুই স্তরেই অবদান রেখে চলেছেন। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন, যখন সিঙ্গুরের বিতর্কিত টাটা ন্যানো প্রকল্প ঘিরে শিল্পোন্নয়ন ও জমি নীতি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছিল। ঐ সময় শিল্পোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।
২০১২-১৩ সালে কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের প্রথম জলতলের নীচ দিয়ে চলা মেট্রো প্রকল্পের প্রাথমিক নির্মাণকাজ শুরু হয়। হাওড়া ময়দান থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প পরবর্তী সময়ে জাতীয় স্তরে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প সামলানোর অভিজ্ঞতা ড. সুব্রত গুপ্তের কাজের মানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে সুব্রত গুপ্তের নিয়োগকে অনেকেই নীতিগত ও প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলায় এসআইআর নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তুঙ্গে। বাংলার শাসক দল বরাবর এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে এসেছে। এমনকি গতকাল তৃণমূলের একটি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভযোগ দায়ের করে। তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে এস আই আর এখন এক প্রাণঘাতী প্রক্রিয়ার পরিণত হয়েছে। ফলে এই দফতরে একজন প্রযুক্তিনির্ভর, অভিজ্ঞ এবং নীতি-অভিজ্ঞ আমলা নেতৃত্ব দিলে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ার গতিপথ আরও সুসংগঠিত হতে পারে বলে মনে করা যায়।
