ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে নতুন ধরনের ড্রোন নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। রাশিয়ার Geran-5 ড্রোনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। এটি প্রায় ৬,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে। এই ড্রোনের বিশেষত্ব শুধু গতি বা উচ্চতায় নয়। এর ব্যবহারিক ভূমিকা ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইলের মধ্যেকার সীমারেখাকেও আরও অস্পষ্ট করছে। একের পর এক এই ড্রোন পাঠিয়ে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছে রাশিয়া।
মস্কোর লক্ষ্য মূলত তিনটি। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিপুল সংখ্যক আক্রমণের মুখে ফেলা। প্রতিরোধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমানো। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা। পরিস্থিতি যে কতটা কঠিন ইউক্রেনের ৩য় আর্মি কোরের ডেপুটি কমান্ডার ম্যাক্সিম জোরিনের মন্তব্যেই তা স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, এই ড্রোনগুলির বিরুদ্ধে কী করা যায়, সেটিই তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।
গত পাঁচ বছরে রাশিয়া একাধিক নতুন অস্ত্র ও যুদ্ধকৌশল তৈরি করেছে। পশ্চিমী দেশগুলির আর্থিক ও সামরিক সহায়তায় ইউক্রেনও তার পাল্টা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ২০২২ সালে ইরানি নকশার Shahed শ্রেণির ড্রোন দিয়ে রাশিয়া যখন বড় আকারে হামলা শুরু করে, তখন দ্রুত কৌশল বদলায় ইউক্রেন। মোবাইল অ্যান্টি-ড্রোন ইউনিট মোতায়েন করা হয়। এসব ইউনিটে মেশিনগান এবং স্বল্পপাল্লার ইন্টারসেপ্টর রকেট ছিল। প্রাথমিক ভাবে সেই ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর হয়। ৯০ শতাংশেরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করার সাফল্য পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল। এতে রুশ বাহিনীকেও কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। এরপর রাশিয়া আক্রমণের ধরন বদলায়। নতুন কৌশল এতটাই কার্যকর হয়েছে যে ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব এখন আগের মতো নিজেদের ইন্টারসেপশন রেট প্রকাশ করতে চাইছে না।