নিজস্ব সংবাদদাতা : বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল নবমীর রাত থেকে, বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর সকাল থেকেই আকাশে মেঘ আরও ঘনীভূত হতে থাকে। দুপুর গড়াতে না গড়াতেই বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতায়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নিম্নচাপের প্রভাবে পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ হতে চলেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কলকাতায় প্রতিমা বিসর্জন যাতে নির্বিঘ্নে হয় সে ব্যাপারে নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুরসভা। শহরের বড় বারোয়ারি পুজোগুলির প্রতিমা এদিন নিরঞ্জন না হলেও বাড়ির এবং ছোট পুজোর প্রতিমা বিসর্জন দশমীতেই হচ্ছে। তাই দুপুর গড়াতেই কলকাতার গঙ্গার ঘাটগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করে।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন দুপুরে বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শনে যান কলকাতা পুরসভার মেয়র-পরিষদ (উদ্যান) দেবাশিস কুমার। সেখানে পুরসভা ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বৃষ্টির মধ্যে কী ভাবে বিসর্জন হবে, তা নিয়েও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সারেন। পরে দেবাশিস কুমার জানান, ‘‘প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যাপারে কলকাতা পুরসভা সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দলও রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও যাতে প্রতিমা বিসর্জনে অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখছে পুরসভা।’’ কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘাটগুলিতে নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে রাখা হয়েছে বাগবাজার, বাজে কদমতলা, গোয়ালিয়র ও নিমতলা ঘাটে। কড়া নজদারির জন্য সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে তৈরি করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়া। প্রতিটি ঘাটে এক একটি পুলিশ দল মোতায়েন রয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিসি, এসি এবং ইনস্পেক্টর পর্যায়ের আধিকারিকরা।
এর আগে, নবমীর বিকেলেই বিসর্জনের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ঘাটগুলি ঘুরে দেখেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। দুর্যোগের আশঙ্কা মাথায় রেখে নবমীর দুপুরেই পুর কমিশনার ধবল জৈনের নেতৃত্বে জরুরি বৈঠকও হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে এক জন করে এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারও দায়িত্বে থাকবেন। বিসর্জনের সময় সার্বিক তদারকি করবেন তাঁরা। পাশাপাশি, ঘাট চত্বরে থাকবেন সাফাইকর্মীরা। প্রতিটি ঘাটে আলো, অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি পরিষেবার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ঘাটগুলিতে নিয়মিত মাইকিং চলছে। জোয়ারের সময় বিসর্জনের ঝুঁকি থাকে তাই পুজো কমিটিগুলিকে এসএমএসে জোয়ার-ভাটার তথ্য পাঠানো হচ্ছে। প্রতিমা জলে নামার পর যাতে দ্রুত তার কাঠামো সরানো যায় তার জন্য চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে রাখা হয়েছে বোট ও বিশেষ দল।
শহর ও শহরতলিতে এ বছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার পুজো। যার মধ্যে বাড়ির পুজো প্রায় আড়াইশো। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে সবচেয়ে বেশি বিসর্জন হয়। তাই এ সব জায়গায় থাকছে বিশেষ নজরদারি। ঘাটে ঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ ছাড়াও তৎপর থাকছে রিভার ট্র্যাফিক পুলিশ। নজরদারির জন্য ব্যবহার হবে ড্রোন ও অতিরিক্ত সিসি ক্যামেরা। জল পুলিশের ‘রেসকিউ টিমে’ রয়েছে পাঁচ জন ডুবুরি। গুরুত্বের কথা ভেবে বাজে কদমতলা ঘাটে রয়েছে বিশেষ লঞ্চের ব্যবস্থা, যাতে আরও ছয় জন ডুবুরি মোতায়েন করা হয়েছে।
সেইসঙ্গে কিছু বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। যেমন, বিসর্জনের শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। নির্দেশ অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা, এমনকি আয়োজকদের গ্রেফতারও করা হতে পারে। পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে শহরের ২৩৮টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। সব মিলিয়ে, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মায়ের বিদায় ক্ষণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন ও পুরসভা।
