শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক! কিন্তু সেই বহু প্রতীক্ষিত দিনেই জীবন নিল সবচেয়ে বড় পরীক্ষা! পরীক্ষা দিতে যাওয়ার মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে বাবাকে চিরদিনের মত হারালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং-এর মধুমিতা কর। তখনও বাবার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে উঠোনে, আর ঘড়ির কাঁটায় টিকটিক করে সময় এগিয়ে আসছে পরীক্ষার হলে যাওয়ার। তাই পিঠে ব্যাগ নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায় অসহায় মধুমিতা। যাওয়ার আগে বাবার নিথর দেহ ছুঁয়ে নিল আশীর্বাদ। যে মানুষটার হাত ধরে চলতে শেখা, সেই মানুষটাকেই শেষবারের মত দেখে, পরীক্ষা কেন্দ্রে এগিয়ে যাওয়া। এমনই হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন সবংয়ের সরতা গ্রামের বাসিন্দারা।
সারতা তারকনাথ ইনস্টিটিউশনের ছাত্রী সে। তার পরীক্ষাকেন্দ্র সবংয়ের দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বার্থসাধক শিক্ষাসদন। খবর পেয়েই সকাল সকাল মধুমিতার বাড়িতে পৌঁছে যান সারতা তারকনাথ ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয়কুমার বর্মন। তিনিই প্রথম সাহস জোগান মধুমিতাকে। বাবা চেয়েছিলেন, মেয়ে যেন মাধ্যমিকে ভালো ফল করে। সেই স্বপ্ন মধুমিতার চোখের সামনে ভাসিয়ে তোলেন তিনি। চোখের জলে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় মধুমিতা।
বছর ৬৭-র বাদলচন্দ্র কর দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবিটিস-সহ একাধিক বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ দিকে তাঁর ছোট মেয়ে মধুমিতা এ বারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বাবাকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু জীবনের ধারা যে কোনো কিছুর জন্যই থেমে থাকে না, সেই শিক্ষাই দিল এই ঘটনা।
