শীতকাল মানেই ত্বকের নানা সমস্যা। এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে। যাঁদের একজিমা বা ডার্মাটাইটিসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে শীতকালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব, র্যাশ এবং ফাটল দেখা দেওয়ার মতো সমস্যা দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে। তাই শীতের শুরু থেকেই ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।
কেন শীতকালে বাড়ে একজিমার সমস্যা?
শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়। ফলে ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গরম জলে স্নান, কড়া সাবান, উলের পোশাক এবং ঘরের হিটার ব্যবহারের ফলেও ত্বকের শুষ্কতা বাড়তে পারে। এই সমস্ত কারণে একজিমা বা অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসের উপসর্গ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
একজিমা বা ডার্মাটাইটিসের প্রধান লক্ষণ
১. ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি, বিশেষ করে রাতে। ২. ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া। ৩. আক্রান্ত স্থানে লালচে বা কালচে দাগ দেখা দেওয়া। ৪. ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা র্যাশ তৈরি হওয়া। ৫. অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে ত্বক ফেটে যাওয়া বা ক্ষত তৈরি হওয়া। ৬. কখনও আক্রান্ত স্থান থেকে রস বের হওয়া বা সংক্রমণ দেখা দেওয়া।
কীভাবে মিলবে স্বস্তি?
১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: স্নানের পরপরই এবং দিনে একাধিকবার সুগন্ধিবিহীন ঘন ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করুন।
২. গরম জল এড়িয়ে চলুন: খুব গরম জলে স্নান করবেন না। হালকা উষ্ণ জলে ৫-১০ মিনিটের মধ্যে স্নান শেষ করুন।
৩. মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার: কড়া সাবান, সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী ও রাসায়নিকযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন।
৪. আরামদায়ক পোশাক পরুন: সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে উলের পোশাক না পরে নরম সুতির পোশাক ব্যবহার করুন।
৫. চুলকানো থেকে বিরত থাকুন: চুলকালে ত্বকের ক্ষতি ও সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। প্রয়োজনে ঠান্ডা সেঁক দিতে পারেন।
৬. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: সমস্যা বাড়লে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ বা স্টেরয়েড ক্রিম দিতে পারেন। নিজে থেকে স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
কখন সতর্ক হবেন?
ত্বকে তীব্র ব্যথা, পুঁজ, হলুদ খোসা, অতিরিক্ত ফোলাভাব বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, একজিমা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলেও সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে এর উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শীতকালেও ত্বক থাকুক সুস্থ, কোমল ও সুরক্ষিত।