ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে বিপুল অর্থ, দামি গাড়ি এবং নথি উদ্ধার করেছে ইডি। শনিবার রাতভর কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার হয়েছে এক কোটিরও বেশি নগদ টাকা। বাজেয়াপ্ত হয়েছে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও নথি। সূত্রের খবর, এই অভিযান মানব পাচারের মামলায় জড়িত একাধিক ব্যবসায়ী ও বার মালিকের অর্থনৈতিক লেনদেনের সূত্রে চালানো হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনজন মূল অভিযুক্ত, জগজিৎ সিং, আজমল সিদ্দিকি এবং বিষ্ণু মুণ্ড্রা। এই তিনজন দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বার ও রেস্তোরাঁর আড়ালে নারি পাচারের চক্র চালাতেন বলে অভিযোগ। বিভিন্ন জেলা ও শহরের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডেকে এনে, পরে তাদের জোর করে যৌন ব্যবসায় নামানো হতো। এভাবেই গড়ে উঠেছিল একটি বড় আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্ক, যার আর্থিক লেনদেনের মূল ধারা চলত এই বার ও রেস্তোরাঁগুলির মাধ্যমে।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, পাচার চক্রের অর্থ দেশের বাইরেও পাঠানো হতো। বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে টাকা স্থানান্তরের প্রমাণ মিলেছে। একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়েছে, যেগুলি মূলত এই তিনজনের ঘনিষ্ঠদের নামে খোলা হয়েছিল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এসব বার ও রেস্তোরাঁ মূলত ‘ফ্রন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা হত। বাইরের দৃষ্টিতে স্বাভাবিক ব্যবসা চালালেও এর আড়ালে চলত মানব পাচার ও অর্থ পাচারের ব্যবসা। এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল তথ্য হাতে পেয়েছে ইডি। বাজেয়াপ্ত ল্যাপটপ ও মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া ই-মেল, লেনদেনের রেকর্ড ও কল ডিটেলে আরও একাধিক নাম উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে রাজ্যের বাইরের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীও।
মানব পাচার মামলার তদন্তে ইডির এই পদক্ষেপে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ও কেন্দ্রীয় সংস্থা যৌথভাবে তথ্য বিনিময় শুরু করেছে। উদ্ধার হওয়া টাকা ও সম্পত্তির উৎস, পাচারের পথ এবং বিদেশি সংযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
