ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রার্থী দেবাশিস কুমার ও সুজিত বসুকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, যা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার একটি জমি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দেবাশিস কুমারকে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জমি লেনদেনের ক্ষেত্রে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং সেখানে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তকারীরা এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন।
অন্যদিকে, রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকেও পৃথক একটি মামলায় তলব করেছে ইডি। এই মামলাটি মূলত নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, এবং তদন্তের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। সুজিত বসুর ভূমিকা ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের দিকগুলো খতিয়ে দেখতে চাইছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
এই তলবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা চলছে। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য নির্বাচনের আগে শাসকদলকে অস্বস্তিতে ফেলা।
অন্যদিকে ইডির বক্তব্য, দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক এবং আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। তাঁদের মতে, কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই তদন্ত এগোনো উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।