ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের মতোই বাংলাতেও ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন তথা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, দুর্গাপুজো শেষ হলেই সেই সংশোধনের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে বিশদ আলোচনা হয়েছে। রাজ্যের তরফে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল যাতে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে রেশন কার্ড ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে বৈধ নথি হিসেবে ধরা হয়।
নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রস্তাব মানা হবে না। কমিশন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা রাখার জন্য মোট ১২টি নির্দিষ্ট নথিকেই মান্যতা দিয়েছে। এই তালিকায় আধার কার্ডকেও যুক্ত করা হয়েছে। অন্য কোনও নথি আর যোগ করা হবে না।
সূত্রের খবর, রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিককে প্রস্তাব পাঠান যাতে রেশন ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন তিনি এ ব্যাপারে অপারগ। যদিও নবান্নর দাবি, সিইও-র তরফ থেকেই প্রথমে জানতে চাওয়া হয়েছিল ১১ নথির বাইরে এ রাজ্যের মানুষদের হাতে আর কী কী সম্ভাব্য পরিচয়পত্র রয়েছে। সেই কারণেই রেশন কার্ড ও স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে সিইও দফতরের দাবি, এটি নবান্নর সঙ্গে কোনও সংঘাতের বিষয় নয়, এবং দুই মনোজের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনও মতপার্থক্যও নেই। গোটা দেশ জুড়ে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
এখন বাংলায় ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের প্রস্তুতি তুঙ্গে। কমিশনের শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, লক্ষ্মীপুজো পেরোতেই বাংলায় এসআইআর শুরু করার ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কমিশন যে ১২টি নথিকে মান্যতা দিয়েছে তা হল কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার ও পিএসইউ কর্মী বা পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার, ১ জুলাই ১৯৮৭-র আগে জারি করা সরকারি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নথি, জন্ম শংসাপত্র, পাসপোর্ট, মাধ্যমিক বা সমমানের শংসাপত্র, রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র, বন অধিকার শংসাপত্র, ওবিসি, এসসি, এসটি বা জাতিগত শংসাপত্র, যেখানে কার্যকর সেখানে এনআরসি, পরিবার নিবন্ধন, সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দপত্র এবং আধার কার্ড।
