ওঙ্কার ডেস্ক: ২৮-এ নভেম্বর শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয় কমিশনকে। তারই জবাবে কমিশন এক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেই অফিশিয়াল বিবৃতির পরই ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্যের শাসকদল। নির্বাচন কমিশনকে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।
রাজ্যে চলতি বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআাআর-প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়। কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের সমস্ত কাজ সংবিধান ও আইন মেনেই হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বা ভুল ব্যাখ্যা ছড়ানো বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের দাবি, এসআইআর-এর প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট বিধি মেনেই চলছে এবং এতে কোনও দলের প্রতি পক্ষপাত বা বিরূপ মনোভাব নেই।
অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশন প্রকৃত তথ্য না দেখিয়ে নির্বাচিত কিছু তথ্য সামনে আনছে। দলের দাবি, এসআইআর-এর সময় বিভিন্ন এলাকায় অনিয়ম ও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা কমিশন ঢাকতে চাইছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, তালিকা সংশোধনের নামে বহু ভোটারকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং বুথ লেভেল অফিসারদের ওপর চাপ বাড়ছে। তৃণমুলের দাবি রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে বহুজন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এমনকি বিএলও-দের উপর অতিরিক্ত চাপের কারণে তাঁদের মৃত্যু ঘটছে। অনেক বিএলও মানসিক চাপে আছেন বলে তাবি করে শাসক দল। তার প্রতিবাদে শুক্রবারে কমিশনকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তাঁদের অভিযোগ, কমিশন যদি সত্যিই নিরপেক্ষ থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ নথি, ফুটেজ ও তথ্য প্রকাশ্যে আনতেই হবে।
এই অবস্থায় কমিশন রাজ্যের প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর-এ যুক্ত সমস্ত অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও নির্বাচনকর্মীর ওপর রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ পড়লে তার বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশন আরও দাবি করেছে, তালিকা প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে এবং আপত্তি জানানোর জন্য সংশ্লিষ্ট তারিখে সুযোগও দেওয়া হবে। আগে থেকেই অভিযোগ তোলা বা প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো অনুচিত।
অপরদিকে জনমানসে এখন সংশয় বাড়ছে। অনেকেই ভাবছেন, নতুন সংশোধিত তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে কি না, অথবা কোনও বিভ্রান্তির কারণে ভোটাধিকার খর্ব হবে কি না। লক্ষণীয়ভাবে, রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘাতের মাঝে সবচেয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ ভোটার। তাঁরা চাইছেন, কোনও প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রস্তুত হোক।
এই দ্বন্দ্বে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল একদিকে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, আর কমিশন পাল্টা দাবি করছে আইন মেনে নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে তারা। দুই পক্ষের এই যুক্তি-প্রতিযুক্তির মধ্যে আসন্ন দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।
