ওঙ্কার ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নবান্নর দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত গড়াল সাসপেনশনের নির্দেশে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে বারুইপুর ও ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের দুই ইআরও এবং দুই সহকারী ইআরও–কে সাসপেন্ড করতেই হল রাজ্য সরকারকে। তবে কমিশনের নির্দেশ ছিল আরও কঠোর শুধু সাসপেনশন নয়, চার অফিসারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করতে হবে। সেই অংশটি এখনও কার্যকর হয়নি, তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, দিল্লির নির্বাচন সদন কি নবান্নর এই অর্ধেক মান্যতায় সন্তুষ্ট হবে, নাকি মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের উপর চাপ বাড়াতে ফের নির্দেশ পাঠাবে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের এই অর্ধেক নির্দেশ পালনকে ঘীরে কড়া ভাষায় শানলেন বিজেপি।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে ৫ অগস্টই এই চার অফিসারকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল কমিশন। পরদিনই ঝাড়গ্রামের সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে কমিশনের উদ্দেশে কড়া আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “ভোট তো এখনও আট মাস বাকি। এখন থেকেই অফিসারদের ভয় দেখাচ্ছ? ক্ষমতা দেখাচ্ছ? কার ক্ষমতা দিয়ে এই কাজ করছ? অমিত শাহর দালালি করছ?” সেই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আশ্বাস ছিল, তাঁদের পাশে থাকছে সরকার, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই অবস্থানই কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের টানাপোড়েনকে বাড়িয়ে তোলে।
নবান্ন প্রথমে কমিশনের নির্দেশ মানতে রাজি হয়নি। কমিশনের কাছে তা যথেষ্ট ছিল না। ১৩ অগস্ট রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে ডেকে পাঠায় কমিশন। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব তথা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সুপারিশ মানতে রাজ্য সরকার বাধ্য। মনোজ পন্থ যুক্তি দেন, এতে সরকারি অফিসারদের মনোবলে প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু কমিশন অবস্থান থেকে সরেনি। অবশেষে ২০ অগস্ট নবান্ন সরকারি নির্দেশ জারি করে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস রুলস, ১৯৭১-এর ধারা অনুযায়ী চার অফিসারকে সাসপেন্ড করে। জানানো হয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে এবং সাসপেনশনের সময় নির্দিষ্ট ভাতা মিললেও অনুমতি ছাড়া সদর দফতর ত্যাগ করা যাবে না।
কমিশনের মূল নির্দেশ ফৌজদারি মামলা রুজ এখনও কার্যকর হয়নি। কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে, এর জন্য ফের চিঠি আসতে পারে দিল্লি থেকে। ইতিমধ্যেই কমিশনের নজরে আরও ২৫ জন অফিসারের নাম রয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর বার্তা দেওয়াই উদ্দেশ্য।
এদিকে নবান্নর এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র টুইটে লিখেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ জানালেও শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকার নতি স্বীকার করেছে। এবার এফআইআরও দায়ের করতে হবে। উনি আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং পশ্চিমবঙ্গও কেন্দ্রীয় আইনের বাইরে নয়।” অর্থাৎ কমিশনের নির্দেশ আংশিকভাবে মানলেও, চাপ ও জেদাজেদির এই লড়াই এখনও থেমে নেই, পরবর্তী পদক্ষেপে আরও জটিল হতে পারে পরিস্থিতি।
